নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: হুগলিতে পুজো মানেই শোভাযাত্রা। নিরঞ্জনের শোভাযাত্রা। বিশেষ করে জগদ্ধাত্রী পুজোকে কেন্দ্র করেই শোভাযাত্রার বিষয়টি বহুল চর্চিত হয়েছে। কিন্তু জনপ্রিয়তা এবং ঐতিহ্যের নিরিখে বাঁশবেড়িয়ার কার্তিক পুজোর শোভাযাত্রাও প্রাচীন। অন্তত যেটুকু পুজোর খতিয়ান পাওয়া যায়, তা থেকে সেই ইঙ্গিতই মেলে। পাশাপাশি, ধনবানদের হাতে পুজো শুরু হওয়ায় শোভাযাত্রার জৌলুসও এখানে স্বাভাবিক। সেই নিরিখে শোভাযাত্রাও আগাগোড়া পুজোর সঙ্গে জুড়ে ছিল।
আধুনিক সময়ে শোভাযাত্রার গড়ন বদলে গেলেও প্রতিযোগিতার বিষয়টি অটুট। এবারও পুজোর সঙ্গে শোভাযাত্রায় প্রতিযোগীদের টেক্কা দিতে কোমর কষছেন উদ্যোক্তারা। ইতিমধ্যেই পুজোর পাশাপাশি শোভাযাত্রার মারকাটারি থিম নিয়ে প্রস্তুতি তুঙ্গে। তবে সবটাই চলছে সঙ্গোপনে, প্রায় ষড়যন্ত্রের ভঙ্গিতে। ২০ নভেম্বর প্রতিযোগিতা আছে যে!
৫০ বছরে পা দিয়েছে বাঁশবেড়িয়ার বসুলেনের অনির্বাণ। তাদের এবারের শোভাযাত্রার থিম, বিবর্তন। তাক লাগানো আলোকসজ্জার সঙ্গে প্রাচীন এক বাহনে করে কার্তিক প্রতিমা নিরঞ্জন যাত্রায় বের হবে। আলোকসজ্জায় দেখানো হবে যানবাহনের বিবর্তনের ইতিহাস। পুজো কমিটির কর্তা অমিত ঘোষ বলেন, আমাদের শোভাযাত্রা বরাবরই চমকদার। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। বাঁশবেড়িয়ার বলাকা সংঘ তাদের শোভাযাত্রায় চন্দননগরের সেরা আলোর খেলা দেখানোর দাবি পেশ করেছে। উদ্যোক্তাদের গোপনীয়তার বেড়া টপকে জানা গিয়েছে, তাদের এবারের শোভাযাত্রার থিম, পাখিদের কনসার্ট। কণ্ঠসংগীতে কোকিল, গিটারে পেঁচা, টিয়ার হাতে ভায়োলিন, সঙ্গতে ময়না, এমনই এক দৃশ্যপট আলোকসজ্জার ধাঁধায় তৈরি করা হবে। থাকবে সংগীতের সমাবেশও। কুণ্ডুগলি নটরাজ পুজো কমিটি আবার শুধুই আলোর মায়ায় ভরসা রাখছে। ক্লাবের এবারের শোভাযাত্রায় আলোর রকমারি খেলা দেখানো হবে। এই পুজোর উদ্যোক্তা অলোক সাহা বলেন, আমরা সবাইকে চমকে দেব। প্রস্তুতি শেষের মুখে। কার্তিক নগরীর জুনিয়র বালকসংঘ তাদের শোভাযাত্রায় হাজির করতে চায়, ভারসাম্য। বিরাট আয়তনের তালা ও গাছগাছালির সমাবেশে তারা প্রকৃতির ভারসাম্যের বার্তা দিয়ে শোভাযাত্রা করবে। থাকবে অনিন্দ্যসুন্দর আলোর সমাবেশ। উদ্যোক্তা শুভ সান্যাল বলেন, মডেল, আলোর বিশেষ কারিকুরিতে আকর্ষক করে তোলা হবে শোভাযাত্রা। গোপনীয়তার স্বার্থে শান্তিপুরের আলোকসজ্জায় শোভাযাত্রা মাতানোর পরিকল্পনা করেছে বাঁশবেড়িয়ার অভিযান। বিশেষ রকমের আলোকসজ্জা যেমন থাকবে, তেমনই নামী ব্যান্ডকেও ডাকা হয়েছে শোভাযাত্রার শোভা বাড়াতে। আলোকসজ্জা, থিমের বাহারের সঙ্গে ব্যান্ডও বাঁশবেড়িয়ার শোভাযাত্রার একটি অঙ্গ। অভিযাত্রী ক্লাব সেই সাবেক পথেই হাঁটছে। আলোকসজ্জার সঙ্গে নামী ব্যান্ড এনে তারাও চমকের পসরা সাজাচ্ছে।
পুজোর পাশাপাশি শোভাযাত্রাও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ বাঁশবেড়িয়ার কার্তিক পুজোয়। তাই প্রকাশ্যে যেমন মনোহর সাজে সাজছে সাবেক বংশবাটি, তেমনই শোভাযাত্রার জন্য চলছে অতি গোপন প্রস্তুতি। লক্ষ্য একটাই, ২০ নভেম্বর রাতে চমকের দাপটে দর্শকের চোখ ঝলসে দিতে হবে।