Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কাটোয়া থেকে ভাগীরথী পেরিয়ে নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ ঢুকছে নদীয়ায়, গ্রেপ্তার ৫

কাটোয়া থেকে ভাগীরথী পেরিয়ে নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ ঢুকছে নদীয়ায়, গ্রেপ্তার ৫
  • ২৪ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: ফেনসিডিল পাচারে এবার রুট বদল করছে চোরাকারবারিরা। এবার কাটোয়া থেকে ভাগীরথী নদী পেরিয়ে ঘুরপথে নদীয়ায় আসছে নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ। পূর্ব বর্ধমান জেলার দিক থেকে তা আনা হচ্ছে। গত শনিবার কালীগঞ্জের বল্লভপাড়া ঘাট থেকে পাঁচজন চোরাকারবারিকে পুলিস গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের কাছ থেকে প্রায় ১২৯৩ বোতল কাশির সিরাপ বাজেয়াপ্ত হয়েছে। চারচাকা গাড়ির ছাদে অভিনব কায়দায় ক্যাবিনেট বানিয়ে তা নদীয়াতে নিয়ে আসা হচ্ছিল। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম সাদ্দাম হোসেন, জাকিরুল বিশ্বাস, সোহেল মণ্ডল, গনিরুল মোল্লা, মরজেল শেখ। তাদের রবিবার কৃষ্ণনগর আদালতে তোলা হয়। বিচারক তাদের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। সোমবার ফের তাদের আদালতে তোলা হবে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিসি হেফাজতে নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে। বল্লভপাড়া ঘাটে চোরাই সামগ্রী একটি টাটা সুমো গাড়ি থেকে অন্য একটি দামি গাড়িতে আনলোড করা হচ্ছিল।‌ কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার অতিরিক্ত পুলিস সুপার (গ্রামীণ) উত্তম ঘোষ বলেন, ‘মাদক পাচার অভিযানে পুলিস সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। কালীগঞ্জ ও হোগলবেড়িয়া থানা এলাকা দিয়ে পাচারের সময় বেশ কয়েকজন কাশির সিরাপ পাচারকারীকে ধরা হয়েছে। তাদের পুলিস হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। পাচারের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ 

Advertisement

নদীয়া জেলার সীমান্ত এলাকায় কাশির সিরাপ পাচারের ঘটনা নতুন নয়। মাঝেমধ্যেই বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ কাশির সিরাপ বাজেয়াপ্ত হয়। কালীগঞ্জের বল্লভপাড়া ঘাট এলাকায় কাশির সিরাপ পাচারের জন্য চোরাকারবারিরা জড়ো হচ্ছে শুনে কিছুটা তাজ্জব হন গোয়েন্দারাও।‌ কারণ সচরাচর দেখা যায়, পূর্ব বর্ধমান জেলা দিয়ে নবদ্বীপ হয়ে নদীয়া জেলায় প্রবেশ করে পাচারকারিরা। তারপর কৃষ্ণনগরের ভিতর থেকে চাপড়া, তেহট্ট হয়ে করিমপুরে পৌঁছে যায় কাশির সিরাপ। আবার কখনও কৃষ্ণনগর দিয়ে জাতীয় সড়ক ধরে ধুবুলিয়া, নাকাশিপাড়া থানা হয়ে ঘুরপথে করিমপুরে যায়। বিগত কয়েক বছর ধরেই করিমপুর এলাকাকে করিডর বানিয়েছে চোরাকারবারিরা‌। এতদিন ধরে এই রুটেই কাশির সিরাপ ডেসপ্যাচ পয়েন্ট করিমপুরে পৌঁছত। স্বাভাবিকভাবে এই রুটে পুলিসের নজরদারি বেড়েছে। 
যার জেরেই কালীগঞ্জের ঘটনার পর পাচারকারীদের রুট বদলের অনুমান করছেন গোয়েন্দারা। এক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া দিয়ে ভাগীরথী নদী পেরিয়ে নদীয়ায় প্রবেশ করছে চোরাকারবারিরা। অভিযান চালিয়ে বল্লভপাড়া ঘাটের দু’টি চার চাকা গাড়িকে আটক করে পুলিস। তল্লাশি চালিয়ে গাড়ির ছাদে অভিনব কায়দায় বানানো ক্যাবিনেট পাওয়া যায়। যার ভিতরেই কাশির সিরাপ রাখা ছিল। গাড়ির ভিতরে যে এমন কোনও কুঠুরি রয়েছে, তা বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় থাকে না। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের মধ্যে চারজনের বাড়ি করিমপুরের মুরুটিয়া থানায় এলাকায়। শুধুমাত্র ধৃত সাদ্দাম হোসেনের বাড়ি মুর্শিদাবাদ জেলা সাগরপাড়া এলাকায়। 
পাশাপাশি হোগলবেড়িয়া থানার নাসিরপাড়া এলাকা থেকেও ৪৯৫ বোতল ফেনসিডিল সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের নাম নিউটন মণ্ডল, বিশ্বজিৎ রায়, সুজিত মণ্ডল।‌ তাদের রবিবার তেহট্ট আদালতে তুলে জেলা হেফাজতে পাঠানো হয়। সোমবার ধৃতদের কৃষ্ণনগর আদালতে তুলে পুলিসি হেফাজতে নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ