নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: প্রতিবছর দুর্গাপুজোর সময় তাঁরা ভিন রাজ্যে ঢাক বাজাতে যান। পুজোয় পরিবার ছেড়ে ভিনরাজ্যে পাড়ি দেওয়ার জন্য মনে কষ্ট থাকলেও লক্ষ্মীলাভের আশায় মুখে থাকত হাসি। তবে এবার বাঁকুড়ার মহিলা ঢাকিদের চোখেমুখে আতঙ্কের ছাপ। কারণ, তাঁরা বাংলা ছাড়া অন্য কোনও ভাষায় কথা বলতে পারেন না। এটাই তাঁদের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা। যদিও ভিন রাজ্যে বাংলাদেশি সন্দেহে একজন ঢাকির গায়ে হাত পড়লে ছেড়ে কথা বলা হবে না বলে বাঁকুড়ার তৃণমূল সংসদ অরূপ চক্রবর্তী হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তেমন হলে দিল্লিতে ঢাক বাজিয়েই কেন্দ্রীয় সরকার তথা বিজেপি-র বাংলা বিরোধিতার আন্দোলন হবে বলে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন।
সোমবার ডোম জনগোষ্ঠীর সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে মোট ১১ দফা দাবিতে বাঁকুড়ার জেলাশাসকের কাছে গণ ডেপুটেশন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সেখানে জেলার বিভিন্ন ব্লক থেকে কয়েক হাজার মানুষ যোগ দেন। ডেপুটেশনে যোগদানকারীদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন ঢাকি। মহিলারা কাঁধে ঢাক নিয়ে বাঁকুড়া শহরের হিন্দু স্কুল ময়দান থেকে মাচানতলা পর্যন্ত মিছিল করেন। মিছিল শেষে তামলিবাঁধ ময়দানে ভারতীয় ডোম সমাজ বিকাশ পরিষদের উদ্যোগে একটি সভা হয়। সেই সভায় উপস্থিত মহিলা ঢাকিরা এবার ভিন রাজ্যে যাওয়ার ব্যাপারে আতঙ্কের কথা জানান। গঙ্গাজলঘাটির বিহারজুড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা অঞ্জলি কালিন্দী, সুলেখা কালিন্দী বলেন, আমরা বিগত বছর অন্য রাজ্যে পুজোয় ঢাক বাজিয়ে এসেছি। তখন কোনও সমস্যা হয়নি। ভিন রাজ্যে গিয়ে নিজেদের মধ্যে বা বাঙালি পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বাংলা ভাষাতেই কথা বলেছি। ট্রেনে যাতায়াতের সময়েও বাংলা বলেছি। তবে এবার দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলা বলার জন্য যেভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে, তাতে আমরা আতঙ্কিত। অনেকেই ভয়ে বরাত নিতে চাইছেন না। কেউ কেউ তা বাতিলও করে দিচ্ছেন। সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী বলেন, ভিন রাজ্যে বাংলাভাষী ঢাকিদের সুরক্ষা ও তাঁদের উৎকন্ঠার বিষয়টি আমি মু্খ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে জানাব। তারপর একজন ঢাকির গায়েও হাত পড়লে আমরা ছেড়ে কথা বলব না। দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপি-র বিরুদ্ধে আন্দোলন হবে। ঢাক বাজিয়েই হবে প্রতিবাদ। ভারতের যে কোনও প্রান্তে বাংলার বাসিন্দাদের যাওয়ার অধিকার সংবিধান দিয়েছে। বাবা সাহেব আম্বেদকর পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নতির জন্য সওয়াল করে গিয়েছেন। ডোম জনগোষ্ঠীর অন্তর্গত ঢাকি সম্প্রদায়ও পিছিয়ে পড়াদের অন্যতম। তাঁদের উপর কোনওরকম অত্যাচার মেনে নেওয়া হবে না। বিজেপি নেতা ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুভাষ সরকার বলেন, বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকরা বহাল তবিয়তে রয়েছেন। তাঁদের উপর কোনও অত্যাচার হয়নি। ভোট ব্যাঙ্কের স্বার্থে তৃণমূল বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। বাঙালিদের উপর অত্যাচারের মিথ্যা দাবি তুলে শাসক দল বাজার গরম করতে চাইছে। তৃণমূল জমানায় পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কোনও উন্নতি হয়নি।