নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: নামমাত্র টাকায় লিজ। তাও সরকারি কোষাগারে টাকা জমা দেয় না। এই পরিস্থিতিতে বাঁকুড়া জেলা পরিষদের স্টল ও জলাশয়গুলি উদ্ধারে তৎপর হল প্রশাসন। মঙ্গলবার বাঁকুড়া জেলা পরিষদের সাধারণ সভার বৈঠক হয়। এদিন দুপুরে জেলা সংখ্যালঘু ভবনে আয়োজিত ওই বৈঠকে বিধায়ক, জেলা পরিষদের সদস্য-কর্মাধ্যক্ষদের সঙ্গে জেলাশাসক অনীশ দাশগুপ্ত সহ প্রশাসনের আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা পরিষদের থেকে লিজ নিয়ে বেশকিছু লোক ওইসব স্টল ও জলাশয় ভোগ করছে। তাদের বেশির ভাগই সরকারি তহবিলে কোনো টাকা দেয় না বলে অভিযোগ। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বড়জোড়ার বিধায়ক বিল্বেশ্বর সিনহা। তিনি বলেন, কোন পদ্ধতিতে জেলা পরিষদের সম্পত্তি লিজ দেওয়া হয়েছিল, তা আমি প্রশাসনের কাছে জানতে চেয়েছি। প্রয়োজনে প্রশাসনকে তদন্ত করে সবকিছু খোলসা করতে হবে। এভাবে সরকারি সম্পত্তি কুক্ষিগত করে রাখা যায় না।
জেলা পরিষদের এক সদস্য বলেন, শতাধিক স্টল ও বেশকিছু বড় জলাশয় একসময়ের প্রভাবশালীদের মদতপুষ্টরা ভোগদখল করছে। সেই সব উদ্ধারের পর নতুন করে লিজ দিলে জেলা পরিষদের আয় বাড়বে। এব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের ব্যাপারে প্রশাসনের আধিকারিকরা এদিনের বৈঠকে আশ্বাস দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, তৃণমূল জমানার শুরুর দিকে বাঁকুড়া জেলা পরিষদের মাধ্যমে অনেক উন্নয়নমূলক কাজ হয়। পরবর্তীকালে জেলা পরিষদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠে। তালডাংরা সহ একাধিক ব্লকে জলাশয় খননে জেলা পরিষদের একাংশ কার্যত পুকুর চুরি করেছিল। প্রকল্পের বরাত দেওয়ার আগেই ঠিকাদারদের কাছ থেকে আগাম ‘উৎকোচ’ নেওয়া হত বলে অভিযোগ। এক হেভিওয়েট রাজনৈতিক নেতা ওই চক্রের মধ্যমণি ছিলেন। তাঁর অঙ্গুলিহেলনেই মুকুটমণিপুর, বেলিয়াতোড়, তালডাংরা সহ বিভিন্ন জায়গায় স্টল, জলাশয় সহ জেলা পরিষদের অন্যান্য সম্পদ নামমাত্র অর্থের বিনিময়ে লিজ দেওয়া হয়। সেই টাকাও অনেকে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়নি। কেউ কেউ পরবর্তীকালে ভাড়া মেটায়নি। ফলে সংশ্লিষ্ট খাতে জেলা পরিষদের আয় আশানুরূপ হয়নি। স্বচ্ছতার সঙ্গে সবকিছু করা গেলে জেলা পরিষদের অনেক বেশি আয় হত বলে বিজেপি বিধায়করা দাবি করেছেন।
জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, কোনো সরকারি সম্পদ বেআইনিভাবে দখল করে রাখা যায় না। জেলা পরিষদের স্টল ও জলাশয় উদ্ধার করা হবে। নিয়ম মেনে পুনরায় তা লিজ দেওয়া হবে।