নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বিজেপির মোকাবিলায় দলীয় নেতা-কর্মীদের বুথের মাটি কামড়ে পড়ে থাকার বার্তা দিল বাঁকুড়া জেলা তৃণমূল। শাসক দলের জেলা নেতৃত্ব বিধানসভা ভিত্তিক কর্মী সম্মেলনের আয়োজন করেছে। বুধবার, বিকেলে তালডাংরা বিধানসভায় ওই কর্মী সম্মেলন আয়োজন করা হয়। আগামী কয়েকদিনে বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রের আওতায় অন্যান্য বিধানসভাতেও ওই ধরনের কর্মী সম্মেলন হবে বলে সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তথা সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী জানিয়েছেন।
অরূপবাবু বলেন, বিজেপি ফের বাঁকুড়ায় মাথাচাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে। গত লোকসভা ভোটের পর থেকে ওরা কার্যত বাড়িতে ঢুকে গিয়েছিল। তালডাংরা বিধানসভা উপ নির্বাচনে ভরাডুবির পরেও বিজেপি শিক্ষা নেয়নি। ফের হারানো মাটি ফিরে পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। তারজন্য আমাদের দলের বিরুদ্ধে কুৎসা ও অপপ্রচার ছড়াতেও পিছপা হচ্ছে না। বিজেপি-র মোকাবিলায় আমরা দলের বুথ স্তরের কর্মীদের এখন থেকেই ময়দানে নামাচ্ছি। সেই কারণে বিধানসভা ভিত্তিক কর্মী সম্মেলনের আয়োজন করছি।
বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী সুভাষ সরকার বলেন, বাঁকুড়ায় তৃণমূলের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গিয়েছে। সেটা বুঝতে পেরেই ওরা বিজেপির ভূত দেখতে শুরু করেছে। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে জঙ্গলমহলে তৃণমূলের ভরাডুবি হবে।
উল্লেখ্য, লালমাটির জেলা বাঁকুড়ায় গত কয়েকটি নির্বাচনে দুই ফুলের টক্কর লক্ষ্য করা গিয়েছে। বিজেপি পরপর নির্বাচনে ঘাসফুল শিবিরকে বেগ দিয়েছিল। কিন্তু গত লোকসভা নির্বাচন থেকে রাজনীতির পাশা ঘুরে যায়। গত বছর বাঁকুড়া আসনটি পদ্মের কব্জা থেকে ছিনিয়ে নেয় তৃণমূল। তালডাংরা বিধানসভার উপ নির্বাচনেও তৃণমূল রেকর্ড ভোটে জয়লাভ করে। তবে সম্প্রতি রাজ্যজুড়ে কয়েকটি ঘটনায় তৃণমূলকে কিছুটা চিন্তায় ফেলেছে। সেই ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে দু’দিন আগে বাঁকুড়া শহরে তৃণমূল নেতৃত্ব মহামিছিল করে। চাকরিহারা শিক্ষকদের কাজ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে আয়োজিত ওই মিছিলে বাঁকুড়া শহর কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায়। বিভিন্ন ব্লক থেকে আসা অন্তত হাজার পাঁচেক তৃণমূল কর্মী-সমর্থক শহরে ঢুকতেই পারেনি বলে শাসক দলের দাবি। ওই ভিড় দেখে উৎফুল্ল তৃণমূল নেতারা এবার আন্দোলন বুথে বুথে ছড়িয়ে দিতে চাইছে।
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন তালডাংরার বিবরদা হাইস্কুলের মাঠে কর্মী সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানেও ভালো ভিড় হয়। সেই সম্মেলন মঞ্চ থেকে অরূপবাবু পুলিসের ভূমিকায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এদিনের সম্মেলনে আমাদের দলের বহু নেতা-কর্মী সমবেত হয়েছিলেন। কিন্তু সেভাবে পুলিস মোতায়েন করা হয়নি। তাছাড়া সাংসদ হিসাবে আমার কনভয়কে থানার গাড়ির সভাস্থল পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া উচিত ছিল, কিন্তু এদিন তালডাংরা পুলিস তা করেনি।
এ প্রসঙ্গে বাঁকুড়ার পুলিস সুপার বৈভব তেওয়ারি বলেন, সাংসদের অসন্তোষের কথা শুনেছি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। আজ, বৃহস্পতিবার বিকেলে হাটগ্রাম ফুটবল ময়দানে ছাতনা বিধানসভার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। শালতোড়া বিধানসভার কর্মী সম্মেলন হবে মেজিয়া হাইস্কুল মাঠে শুক্রবার বিকেলে এবং শনিবার সকাল ১০টায় রাইপুরের একটি হিমঘরের মাঠে। ওইদিন বিকেলে খাতড়ার একটি গেস্ট হাউসে রানিবাঁধ বিধানসভার কর্মী সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। রবিবার বিকেলে জেলা তৃণমূল কার্যালয় সংলগ্ন মাঠে বাঁকুড়া বিধানসভার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।