নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: ঝাড়খণ্ডে মাওবাদীদের পেতে রাখা আইইডি বিস্ফোরণে জখম হলেন বাঁকুড়ার বাসিন্দা এক সিআরপিএফ জওয়ান। পার্থপ্রতিম দে নামে বছর বিয়াল্লিশের ওই জওয়ানের বাড়ি বাঁকুড়া শহরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের রাজগ্রামে। শনিবার রাতেই সিআরপিএফের তরফে পার্থপ্রতিমবাবুর বাড়িতে তাঁর জখম হওয়ার খবর জানানো হয়। খবর পাওয়ার পর থেকেই জওয়ানের স্ত্রী, বাবা, মা ও আত্মীয় পরিজনরা চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন। রাঁচির হাসপাতালে ওই জওয়ানের অস্ত্রোপচার হবে বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। রবিবার দিনভর শহরের বাসিন্দারা জখম জওয়ানের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন। স্থানীয় কাউন্সিলার থেকে শুরু করে প্রতিবেশীরা তাঁর বাড়িতে গিয়ে পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
বাঁকুড়ার পুলিস সুপার বৈভব তেওয়ারি বলেন, বিস্ফোরণে শহরের বাসিন্দা ওই জওয়ানের জখম হওয়ার খবর পেয়েছি। ঘটনায় পশ্চিম মেদিনীপুরের বাসিন্দা কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক আধিকারিকের মৃত্যু হয়েছে। তবে ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত ঝাড়খণ্ড পুলিস ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর আধিরিকরা বলতে পারবেন।
জওয়ানের স্ত্রী পিয়ালি দে বলেন, মাসখানেক আগে স্বামী ছুটি কাটিয়ে কাজে যোগ দেন। ঝাড়খণ্ডের সিংভূম জেলার মশাবনীতে স্বামীর সদর দপ্তর ছিল। বিস্ফোরণের খবর পাওয়ার পর থেকেই চরম উদ্বেগের মধ্যে কাটছে। এক সহকর্মীর মোবাইলে স্বামীর সঙ্গে কথা হয়েছে। হাঁটুতে চোট রয়েছে বলে আমাকে জানিয়েছেন। রাঁচির হাসপাতালে শীঘ্রই অস্ত্রোপচার হবে।
স্থানীয় কাউন্সিলার অপর্ণা চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমি এদিন জওয়ানের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছি। বাড়িতে স্ত্রী, দুই সন্তান ছাড়াও পার্থপ্রতিমের বৃদ্ধ বাবা-মা রয়েছেন। তাঁর বাবার সম্প্রতি অ্যাঞ্জিওগ্রাম হয়েছে। ফলে তাঁকে ছেলের জখম হওয়ার বিষয়টি জানানো হয়নি। তবে এদিন সকাল থেকেই প্রতিবেশী ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের আনাগোনা দেখে তিনি বারবার পরিবারের সদস্যদের এব্যাপারে জিজ্ঞাসা করছেন। আমরা সকলেই পরিবারের পাশে রয়েছি। এই ধরনের নাশকতা বন্ধে সরকারের কড়া পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝাড়খণ্ডের ঘাটশিলা রেঞ্জের একটি জঙ্গলে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে সিআরপিএফ জওয়ানরা শনিবার অভিযান চালাচ্ছিলেন। ওই জঙ্গলে মাওবাদীদের গতিবিধির খবর পেয়েই বাহিনী অভিযানে নামে। মাওবাদীরা জঙ্গলের শুকনো লতাপাতার তলায় আইইডি রেখেছিল। তা ফেটে গিয়ে এরাজ্যের বাহিনীর দুই সদস্য জখম হন। তাঁদের দু’জনেরই বাড়ি পশ্চিমবঙ্গে। তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে হেলিকপ্টারে রাঁচি নিয়ে যাওয়া হয়। পরে জখমদের মধ্যে সিআরপিএফের ওই আধিকারিকের মৃত্যু হয়। তবে পার্থপ্রতিমবাবুর চোট তেমন গুরুতর নয় বলে তাঁর সহকর্মীদের তরফে পরিবারকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।