Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাঁকুড়া: শিশু খুনে ধৃত প্রশান্ত বিজেপির ছাতার তলায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল

বাঁকুড়া: শিশু খুনে ধৃত প্রশান্ত বিজেপির ছাতার তলায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল
  • ২৯ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বাঁকুড়ার বগা গ্রামে শিশুকন্যাকে বালিশ চাপা দিয়ে খুনের অভিযোগে ধৃত প্রশান্ত বাউরি বিজেপি করত। বিজেপির ছাতার তলায় থাকার কারণেই সে বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল। বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে আপত্তি জানানোয় নিজের দুই দাদাকে প্রশান্ত বেশ কয়েকবার মারধর করেছিল। বাড়াবাড়ি করার কারণে সেও প্রতিবেশীদের হাতে কয়েকবার মার খেয়েছিল। ওই যুবক নিজের বুথে বিজেপিকে নেতৃত্ব দিত বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। পুলিসি জেরাতেও ওই যুবক বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছে। যদিও বিজেপি তাকে নেতা হিসেবে মানতে চায়নি। অন্যদিকে, প্রশান্তর দেখানো ঝোপ থেকে উদ্ধার হওয়া হাড়গোড়ের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পুলিসের হাতে সোমবার এসে পৌঁছেছে। রিপোর্ট দেখে সেগুলি নিখোঁজ শিশুর বলেই পুলিস কর্তারা অনুমান করছেন।

Advertisement

বাঁকুড়ার পুলিস সুপার বৈভব তেওয়ারি বলেন, বগা গ্রামের ঝোপ থেকে উদ্ধার হওয়া হাড়গোড় ময়নাতদন্তের জন্য বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছিল। তার রিপোর্ট আমাদের হাতে এসেছে। হাড়গুলি এক-দু’বছরের শিশুর বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে সেগুলি ওই শিশুর বলেই আমরা মনে করছি। ধৃতকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করে আমরা বেশকিছু তথ্য পেয়েছি। বিজেপির বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুজিত অগস্তি বলেন, শিশুকন্যা খুনের অভিযোগে ধৃত প্রশান্ত আমাদের দলের সমর্থক ছিল। তবে সে কোনও পদে ছিল না। দল বেআইনি কাজকে সমর্থন করে না।
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চার বছর ধরে গ্রামেরই এক বধূর সঙ্গে প্রশান্তর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। সেই বিষয়টি স্ত্রী মণি বাউরি মেনে নিতে পারেনি। স্বামীর ব্যভিচার মেনে নিতে না পেরে সেও পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। প্রশান্তকে ‘টাইট’ দেওয়ার লক্ষ্যে ওই বধূ এক যুবকের সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে লিপ্ত হয় বলে পুলিসকে জানিয়েছে। স্বেচ্ছাচার নিয়ে ওই দম্পতির মধ্যে বিরোধ এতটাই চরমে ওঠে যে, ১৫মাসের শিশুকন্যার পিতৃত্ব নিয়ে প্রশান্ত প্রশ্ন তুলেছিল। ওই মেয়ে তার নয় বলে সে দাবি করলে বিবাদ চরম আকার নেয়। পিতৃত্ব অস্বীকার করার পিছনে দু’জনেরই বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক দায়ী বলে পুলিস মনে করছে।
এক তদন্তকারী আধিকারিক বলেন, গ্রামের বধূর সঙ্গে প্রশান্তর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে পরিবারের লোকজন আপত্তি তুলেছিল। তার দুই দাদা প্রতিবাদ জানায়। তখন প্রশান্ত ওই দু’জনকে মারধর করে। তার সঙ্গে যার সম্পর্ক ছিল, সেই বধূর ছেলেও কয়েকবার প্রশান্তকে মারধর করে। প্রশান্ত বিজেপির বুথ সভাপতি ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। বিজেপির ছাতার তলায় থাকার কারণেই সে ক্রমশ বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল। ধৃতকে আমরা সাতদিনের জন্য হেফাজতে নিয়েছি। বাবা-মা মিলে ১৫মাসের শিশুকে বালিশ চাপা দিয়ে খুনের ঘটনা জেলার বাইরেও সাড়া ফেলেছে। ফলে প্রশান্তকে আরও জেরা করা প্রয়োজন রয়েছে। • 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ