নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: প্রথমে শুশুনিয়া পাহাড় ও পরে বাঁকুড়ার ‘অ্যামাজন’ বলে পরিচিত রানিবাঁধের জঙ্গলে অগ্নিকাণ্ডয় বনদপ্তরের অন্দরে শোড়গোল পড়ে গিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বুধবার অনুষ্ঠিত মাসিক ‘ক্রাইম কনফারেন্সে’ বাঁকুড়া জেলা পুলিসের সঙ্গে বনদপ্তরের আলোচনা হয়েছে। সেখানেই দোল ও হোলি উপলক্ষ্যে আজ, শুক্রবার থেকে বাঁকুড়ার জঙ্গলে বাড়তি নজরদারি চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। বনদপ্তরের পাশাপাশি পুলিসও জঙ্গলে নজর রাখবে। কেউ যাতে আগুন লাগাতে না পারে তার জন্যই ওই নজরদারি বলে বনদপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে।
বাঁকুড়া দক্ষিণের বিভাগীয় বনাধিকারিক প্রদীপ বাউরি বলেন, কয়েকদিন আগে শুশুনিয়া পাহাড়ে আগুন লেগেছিল। দমকলের সহযোগিতায় দীর্ঘক্ষণ পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। বুধবার রানিবাঁধ বিটের আওতায় থাকা জঙ্গলে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। পরপর অগ্নিকাণ্ড স্বাভাবিক নয় বলেই আমরা মনে করছি। ফলে বিষয়টি নিয়ে ‘ক্রাইম কনফারেন্সে’ জেলা পুলিসের আধিকারিকদের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে। দোল ও হোলি উপলক্ষ্যে জঙ্গলে বাইরে থেকে অনেকের আগমন ঘটে। জঙ্গলমহলের পলাশ, শিমূলের টানে তাঁরা আসেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ নিছক মজা করে যাতে জঙ্গলের শুকনো লতাপাতায় আগুন না ধরিয়ে দেয়, তারজন্য বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন। আমরা বৃহস্পতিবার থেকেই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার কাজ শুরু করেছি। শুক্র থেকে রবিবার পর্যন্ত পুলিসের সঙ্গে যৌথভাবে টানা বনজঙ্গলের উপর নজর রাখা হবে।
বাঁকুড়ার পুলিস সুপার বৈভব তেওয়ারি বলেন, জঙ্গলে ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। ওই ধরনের কাজ থেকে সকলকে বিরত থাকার জন্য বলা হচ্ছে। পুলিসের নজরে পড়লে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, বাঁকুড়ার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র শুশুনিয়া পাহাড়ে সপ্তাহখানেক আগে আগুন লাগে। বসন্তের হাওয়ায় আগুনের লেলিহান শিখা দ্রুত পাহাড়ের একাংশ গ্রাস করে নেয়। দাউ দাউ করে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আগুন জ্বলতে থাকে। বহু দূর থেকে আগুন ও ধোঁয়া নজরে পড়ে। আগুনে গাছপালার পাশাপাশি বন্য জীবজন্তু ও এলাকার বাস্তুতন্ত্রের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ওই ঘটনার পিছনে কাঠ ও পাথর মাফিয়াদের হাত থাকতে পারে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। ঘটনার পর বনদপ্তরের আধিকারিকরা পাহাড়ে গিয়ে তদন্ত চালান। এডিএফও পদমর্যাদার এক আধিকারিক কর্মীদের নিয়ে দীর্ঘক্ষণ ঘটনাস্থলে ছিলেন। তাঁরা সামগ্রিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। যদিও তদন্তে ঠিক কী উঠে এসেছে সে ব্যাপারে সংবাদমাধ্যমকে কিছু জানানো হয়নি। এদিকে, শুশুনিয়ার অগ্নিকাণ্ডের রেশ কাটার আগেই রানিবাঁধের জঙ্গলে আগুন লাগে। বর্তমানে জঙ্গল শুকনো পাতায় ভর্তি রয়েছে। ফলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পুলিস ও দমকলের সাহায্যে বনকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। রানিবাঁধের ১২ মাইলের জঙ্গলকে বাঁকুড়ার ‘অ্যামাজন’ বলা হয়। অনেকে ওই জঙ্গলকে জেলার ‘ফুসফুস’ বলেও অবিহিত করেন। পাশাপাশি বিহারীনাথের পাদদেশের মতো শুশুনিয়া পাহাড়ের উপত্যকাকেও পরিবেশবিদদের একাংশ দাক্ষিণাত্যের ‘আরাকু ভ্যালির’ সঙ্গে তুলনা করেন। ফলে ওই দুই জায়গায় পরপর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বনদপ্তরের পাশাপাশি জেলা পুলিস ও প্রশাসনের কর্তাদেরও নাড়িয়ে দিয়েছে।