নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: জবরদখল রুখতে গন্ধেশ্বরী নদীর তীরবর্তী এলাকা বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে সেখানে গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিল বাঁকুড়া পুরসভা। বাঁকুড়া শহরের সতীঘাট-বাইপাস এলাকায় ইতিমধ্যে বাঁশের বেড়া দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। দ্রুত অন্য এলাকাগুলিতেও বেড়া দেওয়া হবে বলে পুরসভার তরফে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, গন্ধেশ্বরী নদীর পাড় জবরদখলকারীদের কব্জায় চলে যাওয়া নিয়ে সম্প্রতি ‘বর্তমান’ পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়। দোকানপাট নির্মাণের পাশাপাশি কীভাবে বেমালুম নদীর জায়গা দখল করে চুটিয়ে নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবসা চলছে, তা নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এরপরই পুলিস-প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। পুলিসের তরফে নদীর পাড় থেকে দ্রুত নির্মাণ সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার জন্য ব্যবসায়ীদের বলা হয়। তারপর সেই জায়গা ফাঁকা করে দেওয়া হয়। এখন সেই জায়গা যাতে ফের কেউ দখল করতে না পারে তারজন্য পুরসভার তরফে বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাঁকুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান অলকা সেনমজুমদার বলেন, আমরা জবরদখলের বিরুদ্ধে বরাবর কড়া অবস্থান নিয়েছি। নদীর পাড় সেচদপ্তরের আওতায় পড়ে। শহরের মধ্যে কোনও সরকারি জায়গা দখল হতে দেব না। ফলে গন্ধেশ্বরী নদীর পাড় বাঁশ দিয়ে ঘেরা হচ্ছে। ঘেরা অংশে আমরা বৃক্ষরোপণ করব। আগামী দিনে বেড়া নষ্ট হলেও কেউ সেখানে বসতে না পারে, তারজন্য গাছ লাগানো হবে। এতে জবরদখল রোখার পাশাপাশি পরিবেশেরও ভালো হবে। পুরসভা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নজরদারির অভাবে গন্ধেশ্বরী নদীর পাড় ক্রমেই জবরদখলকারীদের দখলে চলে যাচ্ছে। এর আগে বাইপাস সংলগ্ন বহু জায়গা দখল হয়ে যায়। সেখানে দোকানপাটও গজিয়ে উঠেছে। মাথা তুলেছে বাড়িঘর। আট বছর আগে সদর মহকুমা প্রশাসনের তরফে জবরদখলের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। ওইসময় শহরের বহু জায়গা ফাঁকা করে দেওয়া হয়। তখন বাঁকুড়া পুরসভা দখলমুক্ত জায়গায় সৌন্দর্যায়নের কাজ শুরু করে। সার্কিট হাউস, ভৈরবস্থান মোড়, মাচানতলা সহ বেশ কিছু জায়গায় রাস্তার পাশে গাছ লাগানো হয়। কয়েকটি জায়গায় উদ্যানও তৈরি হয়। ওইসময় সতীঘাট-বাইপাসের লক্ষ্যাতোড়া মহাশ্মশান সংলগ্ন এলাকায় গন্ধেশ্বরী নদীর পাড় বরাবর লম্বা একটি পার্ক তৈরি হয়। পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ওই পার্কের উদ্বোধন করেছিলেন। উদ্যান গড়ে ওঠায় ওই এলাকা নতুন করে কেউ দখল করতে পারেনি।