নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: রান্নার গ্যাসের পাইপলাইন পাতার জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া রাস্তা মেরামত করে দেওয়ার দাবি তুলল বাঁকুড়া পুরসভা। তাদের অভিযোগ, বারবার বলা সত্ত্বেও পাইপলাইন পাতার কাজে যুক্ত ঠিকাদার সংস্থার লোকজন পুর কর্তৃপক্ষের কথা শুনছে না। সেজন্য সম্প্রতি ভার্চুয়াল বৈঠকে বাঁকুড়া পুরসভার চেয়ারপার্সন অলকা সেন মজুমদার মহকুমা শাসক অয়ন দত্তগুপ্তের কাছে এনিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন। পুর চেয়ারপার্সন বলেন, এমনিতেই কেন্দ্রীয় বঞ্চনার কারণে অর্থ বরাদ্দ কমে গিয়েছে। তার উপর একটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার গ্যাসের পাইপলাইন পাতার জন্য শহরের রাস্তাঘাট তছনছ করা হচ্ছে। অবিলম্বে বেহাল রাস্তা মেরামত ও পুরসভার সঙ্গে আলোচনা না করে নতুন রাস্তা না খোঁড়ার জন্য সরব হয়েছি। ভার্চুয়াল বৈঠকে মহকুমাশাসককে বিষয়টি জানিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপের অনুরোধ করেছি। সদর মহকুমা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সংস্থার কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে প্রকল্পের কাজে যুক্ত এক কর্মী বলেন, রাস্তা খোঁড়ার আগে পুরসভা বা স্থানীয় কাউন্সিলারকে জানানো হয়। সংস্থার তরফে ক্ষতিপূরণও দেওয়া হয়। সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্যই প্রকল্প রূপায়িত হচ্ছে। এর ফলে গৃহস্থরা অনেক সস্তায় রান্নার গ্যাস পাবেন। আমরা বর্ষার মরশুমে তুলনামূলকভাবে রাস্তা খোঁড়ার কাজ কম করি। দুর্গাপুর থেকে বাঁকুড়ায় নলবাহিত রান্নার গ্যাস পরিষেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেজন্য বাঁকুড়া শহরে পাইপ পাতার কাজ শুরু হয়। বাঁকুড়া-দুর্গাপুর রাজ্য সড়কের পাশেও খোঁড়াখুঁড়ি চলে। এর জেরে জনস্বাস্থ্য কারিগরি(পিএইচই) দপ্তরের পাইপলাইনেরও ক্ষতি হয়েছে। ফলে বাঁকুড়া শহর ও লাগোয়া এলাকায় পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। বাঁকুড়া পুরসভা বিষয়টি মহকুমা প্রশাসনে জানানোয় সমস্যা মিটবে বলে বাসিন্দারা মনে করছেন। বাঁকুড়া শহরের বাসিন্দা সুবোধ চক্রবর্তী, স্বপ্না পরামানিক বলেন, রাস্তা খুঁড়ে পাইপ পাতার পর তা সারাই করা হচ্ছে না। তার ফলে যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে। পুরসভা ও প্রশাসনকে সমস্যা মেটাতে তৎপর হতে হবে।