নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: শহরে দুই মহিলা ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পর বাঁকুড়া পুরসভা নড়েচড়ে বসেছে। ৯জুন থেকে পুর কর্তৃপক্ষ মশাবাহিত রোগ মোকাবিলায় অভিযানে নামতে চলেছে। নভেম্বর মাস পর্যন্ত ওই অভিযান চলবে। শহর সাফাই করার পাশাপাশি সচেতনতামূলক প্রচারও হবে।
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: শহরে দুই মহিলা ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পর বাঁকুড়া পুরসভা নড়েচড়ে বসেছে। ৯জুন থেকে পুর কর্তৃপক্ষ মশাবাহিত রোগ মোকাবিলায় অভিযানে নামতে চলেছে। নভেম্বর মাস পর্যন্ত ওই অভিযান চলবে। শহর সাফাই করার পাশাপাশি সচেতনতামূলক প্রচারও হবে।
গত বছর বাঁকুড়ায় শতাধিক বাসিন্দা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাই এবার পুরসভার তরফে আগাম পদক্ষেপ করা হচ্ছে। এই মরশুমে প্রথম যে দু’জন ডেঙ্গু আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে, তাঁরা শহরেরই বাসিন্দা। এর মধ্যে তাঁরা বাইরে কোথাও যাননি। ফলে শহরে যে ডেঙ্গু মশার উপদ্রব বেড়েছে, তা বোঝা যাচ্ছে বলে পুরসভার স্বাস্থ্যবিভাগের কর্মীরা জানিয়েছেন।
বাঁকুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান অলকা সেনমজুমদার বলেন, ডেঙ্গু সহ সমস্ত পতঙ্গবাহিত রোগের বিরুদ্ধে আমরা ৯জুন থেকে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ওইদিন থেকে স্বাস্থ্যকর্মীরা ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে অভিযানে নামবেন। কোথাও জল জমে থাকলে সাফাইকর্মীরা তা পরিষ্কার করবেন। কারও বাড়ি, দোকান বা ঘেরা জায়গায় জল জমলে তাঁদেরই পরিষ্কার করতে বলা হবে। পরিত্যক্ত টায়ার, ফুলের টব, চায়ের ভাঁড় সহ অন্য ফেলে রাখা পাত্রে যাতে জল না জমতে পারে, সেই দিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে।
পুরসভা জানিয়েছে, গরম পড়তেই বাঁকুড়া শহরে মশার উৎপাত শুরু হয়েছিল। তবে সেই সময় পতঙ্গবাহিত রোগে আক্রান্ত কারও খোঁজ পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি দক্ষিণবঙ্গের অন্য জেলার মতো বাঁকুড়াতেও প্রাক্-বর্ষার বৃষ্টি শুরু হয়েছে। নিম্নচাপের জেরেও ঝড়বৃষ্টি হয়। ফলে নিকাশিনালা সহ শহরের বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টির জল জমেছে। বৃষ্টির জলে ঝোপঝাড়, আগাছাও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে মশার উৎপাত বেড়ে গিয়েছে। মশার কামড়ে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়ার মতো পতঙ্গবাহিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধির আশঙ্কা করছে স্বাস্থ্যদপ্তর।
পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান হীরণ চট্টরাজ বলেন, স্বাস্থ্যকর্মীরা নির্দিষ্ট সময় অন্তর বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষা চালাবেন। কেউ একটানা তিনদিন জ্বরে ভুগলে রক্ত পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেবেন। পুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিনামূল্যে রক্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকবে।
সেখান থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রও পাওয়া যাবে। শহরজুড়ে লার্ভানাশক স্প্রে করবেন পুরকর্মীরা। কোথায় মশার লার্ভা জন্মাচ্ছে, সেই বিষয়ে পুরকর্মীদের জানানোর জন্য বাসিন্দাদের অনুরোধ করা হচ্ছে।