নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: চলতি অর্থবর্ষে ১৫ অর্থ কমিশনের টাকায় গৃহীত প্রকল্প আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে বাঁকুড়া জেলা পরিষদ। ২০২৫-২৬অর্থবর্ষে ৩০কোটি টাকা ব্যয়ে ওই ১৯০টি প্রকল্প রূপায়ণ করা হবে। সেই কাজ তাড়াতাড়ি শেষ করতে জেলা পরিষদ আদাজল খেয়ে নেমে পড়েছে। বাঁকুড়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি অনুসূয়া রায় বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার বিষয়ে আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা পরিষদের এক আধিকারিক বলেন, এবার ১৫ অর্থ কমিশনের টাকা পাওয়ার পর তাড়াতাড়ি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল। প্রস্তাব অনুমোদনের ক্ষেত্রে বাঁকুড়া জেলা পরিষদ মাস তিনেক আগে রাজ্যে প্রথম স্থানে ছিল। ইতিমধ্যে বেশিভাগ কাজের টেন্ডার হয়ে গিয়েছে। ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়ার কাজ চলছে। ডিসেম্বরের মধ্যে সমস্ত কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে কাজের গতি কিছুটা শ্লথ ছিল। ফলে ওই বছরের মধ্যে সব কাজ শেষ করা যায়নি। সেই বকেয়া কাজ এবছর মে মাসের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এখন ওই সমস্ত কাজ কী পর্যায়ে আছে, তা জানতে পর্যালোচনা বৈঠক করা হবে। সেখানে খামতি নজরে পড়লে, তা সমাধানেরও চেষ্টা করা হবে। ওয়ার্কঅর্ডার হয়ে যাওয়ার পর কোনও কাজ ফেলে রাখা যাবে না।
ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের মাধ্যমে যে সমস্ত উন্নয়নমূলক কাজ হয়, তার সিংহভাগ টাকা ১৫ কেন্দ্রীয় অর্থ কমিশন থেকে আসে। এছাড়া, পঞ্চম রাজ্য অর্থ কমিশনের টাকাও উন্নয়নে খরচ হয়। কেন্দ্রীয় অর্থ কমিশনের টাকায় রাস্তাঘাট, বাজার বা অন্য পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ করা যায়। এবার খরাপ্রবণ বাঁকুড়ায় জলসমস্যা মেটাতে জেলা পরিষদ একগুচ্ছ প্রকল্প গ্রহণ করেছিল। কুয়ো, চেকড্যাম, জলাশয় খননের জন্য ১২কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। ওই টাকায় ৩৬টি প্রকল্প রূপায়িত হবে। যে সমস্ত পুকুরের গভীরতা এক থেকে দেড় মিটার, সেগুলি সংস্কার করা হবে। সেসব পুকুরের গভীরতা বৃদ্ধি করে ৪.৫মিটার করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। তাহলে পুকুরের জলধারণক্ষমতা অনেক বেড়ে যাবে। এছাড়া, জেলাজুড়ে কংক্রিটের রাস্তা, নিকাশিনালা, সরকারি ভবন, মার্কেট কমপ্লেক্স তৈরি সহ অন্য প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে।
জেলা পরিষদ সূত্রে খবর, গতবছর অর্থ কমিশনের টাকা খরচে বাঁকুড়া পিছিয়ে পড়েছিল। তা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আধিকারিকরা আগাম পদক্ষেপ করেন। গতবার প্রস্তাব অনুমোদনে দেরি হওয়ায় সেই অর্থবর্ষের কাজ শেষ হতে এবছর মে-জুন পর্যন্ত সময় লেগে যায়। তাই এবার জানুয়ারি থেকেই প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো শুরু হয়। ফলে অর্থবর্ষের শুরুতেই জেলা পরিষদ পুরোদমে কাজে নেমে পড়ে। সেকারণেই ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যাবে বলে আধিকারিকরা আশা করছেন। তাঁদের বক্তব্য, কাজে ঢিলেমি করলে পরে টাকা পেতে সমস্যা হয়। সময়ে কাজ শেষ করলে টাকা মঞ্জুরে জটিলতা থাকে না।