Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জাল জাতিগত শংসাপত্র নিয়ে কড়া নজরদারি বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের

বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজে জাল শংসাপত্র কাণ্ডের পর জেলাজুড়ে কড়া নজরদারি শুরু করেছে প্রশাসন। মেডিক্যাল কলেজ থেকে বহিষ্কার হওয়া এমবিবিএসের চতুর্থ বর্ষের ওই ছাত্রী জলপাইগুড়ি থেকে জালিয়াতি করে শংসাপত্র তুলেছিলেন।

জাল জাতিগত শংসাপত্র নিয়ে কড়া নজরদারি বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের
  • ১৭ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজে জাল শংসাপত্র কাণ্ডের পর জেলাজুড়ে কড়া নজরদারি শুরু করেছে প্রশাসন। মেডিক্যাল কলেজ থেকে বহিষ্কার হওয়া এমবিবিএসের চতুর্থ বর্ষের ওই ছাত্রী জলপাইগুড়ি থেকে জালিয়াতি করে শংসাপত্র তুলেছিলেন। এ জেলাতেও যাতে কেউ জাল জাতিগত শংসাপত্র ইস্যু না করাতে পারে, তারজন্য নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে প্রশাসনের আধিকারিকরা জানিয়েছেন। তাছাড়া জাতিগত শংসাপত্র জালিয়াতি ইস্যুতে এর আগে একাধিক আদিবাসী সংগঠনের তরফে জেলা প্রশাসনের কাছে ডেপুটেশন জমা দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভ, অবরোধ কর্মসূচিও পালন করা হয়েছে। বছর ঘুরলেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে যাতে জঙ্গলমহলের এই জেলায় নতুন করে শংসাপত্র নিয়ে কোনও বিতর্ক তৈরি না হয়, তারজন্য প্রশাসনের এই শ্যেনদৃষ্টি বলে ওয়াকিবহাল মহলের অভিমত। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, তফসিলি জাতি ও উপজাতি শংসাপত্র পাওয়ার ক্ষেত্রে বেশকিছু নিয়ম মানতে হয়। তারজন্য নথিও জোগাড় করতে হয়। সাধারণ শ্রেণিভুক্তরা কোনওভাবেই জাতিগত শংসাপত্র পাবেন না। কেউ যাতে জালিয়াতি করে শংসাপত্র সংগ্রহ করতে না পারে, তারজন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মী-আধিকারিকদের বলা হয়েছে। 

Advertisement

বাঁকুড়ার সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী বলেন, জালিয়াতি করে শংসাপত্র না জমা দিলে ওই ছাত্রীর চারবছর মেডিক্যাল পড়া বৃথা যেত না। এটা একটা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল। আমাদের সরকার জাল শংসাপত্রধারীদের রেয়াত করবে না। প্রকৃত আদিবাসীরাই এসটি সার্টিফিকেট পাবেন। অন্য কোনও সম্প্রদায়ভুক্ত ছাত্রছাত্রী যাতে কারও প্ররোচনায় জাল শংসাপত্র না তোলেন, তারজন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। কারণ তাঁদেরও ওই ছাত্রীর মতো পরিণতি হবে।  প্রশাসনের পাশাপাশি আমরাও এ ব্যাপারে নজর রাখব।
উল্লেখ্য, রাজ্যের যে কয়েকটি জেলায় তফসিলি জাতি ও উপজাতি সম্প্রদায়ের বাস বেশি, বাঁকুড়া তারমধ্যে অন্যতম। এ জেলার একাধিক বিধানসভা আসন সংরক্ষণের আওতায় রয়েছে। ফলে শংসাপত্র জালিয়াতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই যোগ্যরা আন্দোলন করে আসছেন। তাঁদের অভিযোগ, আদিবাসী ও তফসিলি না হওয়া সত্ত্বেও অনেকে জাতিগত শংসাপত্র তুলে তার ফায়দা নিচ্ছে। তার ফলে প্রকৃত তফসিলি জাতি ও উপজাতি সম্প্রদায়ের ছাত্র, চাকুরীপ্রার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। শংসাপত্রধারী অন্যান্য শ্রেণিভুক্তদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এঁটে ওঠা মুশকিল হচ্ছে।  প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, পিছিয়ে পড়া জনজাতিকে সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই সংবিধান প্রণেতারা সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছিলেন। তা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক হয়েছে। তবে সংবিধান স্বীকৃত কোনও বিষয় যতদিন চালু থাকবে, ততদিন পর্যন্ত উপভোক্তাদের সেই সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। তা থেকে তাঁদের বঞ্চিত করা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। ভর্তির সময় পড়ুয়াদের জমা দেওয়া যাবতীয় নথি যাচাই করে নেওয়ার জন্য মেডিক্যাল, ইঞ্জিনিয়ারিং সহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্তাদের কাছে অনুরোধ করা হচ্ছে। পরবর্তীকালে বিতর্ক এড়ানোর জন্যই এই দায়িত্ব তাঁদের নিতে হবে।    

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ