Bartaman Logo
২২ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

৫০ লক্ষ গাছের চারা রোপণের সিদ্ধান্ত বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের

বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন ৫০ লক্ষ গাছের চারা রোপণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারি দপ্তরগুলিতে গাছ লাগানো হবে। বিস্তারিত পড়ুন।

৫০ লক্ষ গাছের চারা রোপণের সিদ্ধান্ত বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের
  • ২২ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বৃক্ষচ্ছেদন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর অসন্তোষ প্রকাশের পরই বাঁকুড়ায় ৫০ লক্ষ গাছের চারা রোপণ করার সিদ্ধান্ত জেলা প্রশাসনের। জেলার সব দপ্তরকে টার্গেট বেঁধে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দপ্তরের আধিকারিকদের নিয়ে জেলা প্রশাসন বৈঠক করে। সেখানে এ ব্যাপারে আলোচনা হয়। এর পাশাপাশি বিগত ‘দিশা’ বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়েছে তারও পর্যালোচনা হয়েছে। 

Advertisement

বাঁকুড়ার জেলাশাসক অনীশ দাশগুপ্ত বলেন, সরকারি অফিস, স্কুল, অঙ্গনওয়াড়ি ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র চত্বর, রাস্তার পাশে ও সেচখালের পাড় সহ অন্যান্য জায়গায় গাছ লাগানো হবে। এদিন স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পূর্ত, সেচ, কৃষি সহ অন্যান্য দপ্তরের আধিকারিকদের নিয়ে আমরা বৈঠক করেছি। এছাড়াও গত জুন মাসে আয়োজিত দিশা বৈঠকে গৃহীত নতুন প্রকল্পের অগ্রগতি কতটা হল, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। 
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়ার সাড়ে ৫ হাজার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের প্রতিটিতে পাঁচটি করে, সাড়ে ৪ হাজার স্কুলে ১০টি করে গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ল্যাম্পস্‌, সংঘ সমবায়, বিশ্ববিদ্যালয় সহ অন্যান্য সরকারি, আধা সরকারি প্রতিষ্ঠানেও প্রচুর বৃক্ষরোপণ করা হবে। জেলা উদ্যানপালন দপ্তর এক লক্ষ গাছ লাগাতে চলেছে। নিজ নিজ এলাকায় কৃষি, সেচ, পূর্ত, জনস্বাস্থ্য কারিগরী দপ্তরকেও গাছ লাগাতে বলা হয়েছে। 
উল্লেখ্য, গত জুন মাসে মুখ্যমন্ত্রী দুর্গাপুর থেকে হেলিকপ্টারে চেপে মুকুটমণিপুরে হুল দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। ওইসময় আকাশপথে তিনি বাঁকুড়া জেলার উত্তর থেকে দক্ষিণ প্রান্ত পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করেন। জেলার বনাঞ্চল ফাঁকা হয়ে গিয়েছে বলে শুভেন্দুবাবু তোপ দাগেন। অবাধে বৃক্ষচ্ছেদন নিয়ে বনদপ্তরের সমালোচনাও শোনা যায় মুখ্যমন্ত্রীর মুখে। রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের মনোভাব বুঝে তড়িঘড়ি করে বনদপ্তর গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেয়। জেলা প্রশাসনও এ ব্যাপারে বাড়তি উদ্যোগ নিয়েছে। বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, রাজ্যে পরিবর্তনের পর উন্নয়ন সংক্রান্ত দিশা বৈঠক শুরু হয়েছে। প্রতি তিন মাস অন্তর ওই বৈঠক হয়। জুন মাসের প্রথম বৈঠকে জেলার একাধিক বড় সেতুর প্রস্তাব জমা পড়ে। ওইসব সেতুর প্রস্তাবিত এলাকা পরিদর্শন, মাটি পরীক্ষা, ডিপিআর তৈরি, প্রস্তাবের অনুমোদন সহ অন্যান্য পর্যায়ে কতটা কাজ হয়েছে, তা নিয়ে আমরা এদিন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করেছি। সেতুগুলি নির্মাণে অনেক টাকা ব্যয় হবে। ফলে বরাদ্দ আসতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। দ্রুততার সঙ্গে আগাম কাজ সেরে রাখলে টাকা পেতে সুবিধা হবে। কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির সুষ্ঠু রূপায়ণ নিয়েও এদিনের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।       

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ