


নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বাঁকুড়ায় এসআইআর ক্রমশ বুমেরাং হচ্ছে বিজেপি-র কাছে। বাঁকুড়া-১ সহ একাধিক ব্লকে বিজেপি-র মণ্ডল পদাধিকারী ও সদস্যদের নাম বাদ পড়া ও বিচারাধীন থাকা নিয়ে পদ্ম শিবিরে কোন্দল শুরু হয়েছে। বহু বিজেপি কর্মী-সমর্থকও ওই তালিকায় রয়েছেন, যা নিয়ে ক্ষুব্ধ দলের নীচুতলার কর্মীরা। সেই ক্ষোভ সামাল দেওয়া নিয়ে ঘোর দুশ্চিন্তায় পড়েছে জেলা নেতৃত্ব। এদিকে, তৃণমূলের তরফে বাদ পড়া বৈধ ভোটারদের বাড়ি গিয়ে আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। দলের নেতা, জনপ্রতিনিধিরা বিচারাধীন ভোটারদের কাছে গিয়ে পাশে থাকার বার্তা দিচ্ছেন। বাঁকুড়া পুরসভার চেয়ারপার্সন অলকা সেনমজুমদার, বড়জোড়ার বিধায়ক অলোক মুখোপাধ্যায়, স্থানীয় ব্লক সভাপতি কালিদাস মুখোপাধ্যায় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন। এছাড়া বুধবার বড়জোড়া ব্লকের মানাচরে এসআইআরে বৈধ ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে মতুয়া মহাসংঘের ব্যানারে মিছিল হয়। মিছিল থেকে সংগঠনের নেতারা অবিলম্বে বাদ পড়া ভোটারদের তালিকাভুক্ত করার দাবি জানান।
অলোকবাবু বলেন, বিজেপি নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে তৃণমূল সমর্থকদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিতে চেয়েছিল। বৈধ ভোটারদের নাম পুরোপুরি বাদ দেওয়া অথবা ঝুলিয়ে রাখা যে কতটা ভুল হয়েছে, তা ওরা এখন ওরা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। গত লোকসভা নির্বাচনে মানাচরের বড় অংশ বিজেপিকে ভোট দিয়েছিল। এখন তাঁরাই তালিকার বাইরে চলে গিয়েছেন। বিজেপি আগামী দিনে মানাচরে ঢুকতে পারবে না।
বিজেপি-র বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তাপস বসু বলেন, নির্বাচন কমিশনকে এসআইআরের জন্য বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) এবং রাজ্য সরকারের কর্মী-আধিকারিকদের উপর নির্ভর করতে হয়। বৈধ ভোটারদের হয়রানির পিছনে তাঁদের হাত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। মানাচরবাসী আগামী দিনেও আমাদের সঙ্গেই থাকবেন। এনিয়ে তৃণমূলকে চিন্তা করতে হবে না। এসআইআর কমিশন করছে। তাতে আমাদের দলের কোনো ভূমিকা নেই।
রাইপুরের এক বিজেপি নেতা বলেন, জঙ্গলমহলেও দলের নেতারা অনুপ্রবেশকারী খুঁজে বেড়াচ্ছেন। অযথা বৈধ ভোটারদের হয়রানি করা হচ্ছে। আমাদের দলের বহু সমর্থকের নাম বাদ পড়েছে নতুবা বিচারাধীন রয়েছেন। বাঁকুড়া-১ ব্লকের এক মণ্ডল সহ সভাপতির নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এভাবে চললে আমরা মানুষের কাছে ভোট চাইতে যেতে পারব না।
উল্লেখ্য, বাঁকুড়ায় দু’দফায় প্রায় ১ লক্ষ ৩৫ হাজার ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। ৪০ হাজার নাম বিচারাধীন রয়েছে। এজেলা বাংলাদেশ সীমান্ত বহু দূরে রয়েছে। ফলে অনুপ্রবেশকারী খুঁজে পাওয়া মুশকিল। সেটা বুঝতে পেরে বিজেপি নেতৃত্ব ফর্ম-৭ জমা দিয়ে অনেকের নাম বাদ দিতে চেয়েছিল। শুধুমাত্র ওন্দা বিধানসভা এলাকাতেই ১৫ হাজার ফর্ম একত্রিত করা হয়েছিল। তবে তৃণমূল ময়দানে নামায় বিজেপি নেতৃত্ব সেসব বিডিও অফিসে জমা দিতে পারেনি। একই চিত্র ছাতনা, বাঁকুড়া সহ অন্যান্য জায়গাতেও লক্ষ্য করা গিয়েছিল। নাম বাদ দিয়ে পদ্ম শিবির তৃণমূলকে বিপাকে ফেলতে চেয়েছিল। এখন বিজেপি নিজেদের খোঁড়া গর্তে পড়ে হাঁসফাঁস করছে।