পিনাকী ধোলে, সিউড়ি: বীরভূম জেলা পরিষদ নাকি দুর্নীতির আখড়া! গত কয়েক বছর ধরে এমনই অভিযোগ ছিল বিজেপির। সেই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে এবার সরাসরি ময়দানে নামল কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষ অডিট টিম। পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের গ্রামীণ উন্নয়নের টাকা খরচে কোনো গরমিল রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে বিশেষ প্রতিনিধি দল। জেলা প্রশাসনিক সূত্রের খবর, এই কাজের জন্য দিল্লির নির্দেশে তিন সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল গঠন করা হয়েছে। সোমবার সকালে জেলা পরিষদে এসে পৌঁছায় ওই টিম। তাঁরা জেলা পরিষদের কর্তাদের সঙ্গে প্রথম দফায় বৈঠকও করেছেন। জানা গিয়েছে, আগামী ২৯জুলাই পর্যন্ত এই হিসাব পরীক্ষার কাজ লাগাতার চলবে। জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ বলেন, এই অডিট নিয়মমাফিক। প্রতি বছরই হয়। এবারও হচ্ছে। এর মধ্যে নতুন কিছু নয়।
জেলা পরিষদ সূত্রের খবর, পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের তরফে ২০২১-’২৬সালের মধ্যে জেলা পরিষদে আসা সমস্ত খরচের হিসাব এখন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। ক্যাগের(সিএজি) অধীনস্থ ইন্ডিয়ান অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস ডিপার্টমেন্টের তরফে গত ৮জুলাই জেলা পরিষদের এগজিকিউটিভ অফিসার তথা জেলাশাসককে চিঠি পাঠিয়ে এই অডিটের বিষয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়। চিঠিতে স্পষ্ট জানানো হয়, তদন্তকারী দল যখনই যে ফাইল বা নথিপত্র দেখতে চাইবে, তা যেন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হাজির করা হয়। গ্রামীণ উন্নয়নের বিপুল সরকারি টাকা সঠিকপথে খরচ হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতেই এই কড়া পদক্ষেপ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
অভিযোগ, পঞ্চদশ অর্থ কমিশন সহ অন্যান্য সরকারি ফান্ডের কাজের ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ন্যূনতম তিনজন ঠিকাদার টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করলে তবেই তা বৈধ হয়। সবচেয়ে কম খরচে কাজ করতে আগ্রহী ঠিকাদারকে কাজের বরাত দেওয়া হয়। অথচ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কাজের বরাত দেওয়ার ক্ষেত্রে সেই নিয়ম মানা হয়নি।
বিজেপির জেলা সহ সভাপতি দীপক দাস বলেন, জেলা পরিষদের কাজের বরাত যাঁরা পেয়েছেন সেইসব ঠিকাদারের বেশিরভাগই সভাধিপতি কাজল শেখের ঘনিষ্ঠ। বিজেপির অভিযোগ, সরকারি নিয়ম মানার জন্য তিনজন ঠিকাদারকে দিয়েই টেন্ডার ড্রপ করানো হত। কে কত টাকায় টেন্ডার দেবে, তা আগে থেকে ঠিক করা থাকত। তিনজনের বাইরে অন্য কোনো ঠিকাদার দরপত্র জমা দিলে, তা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হত।
জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, বহু ঠিকাদার টেন্ডার ড্রপ করেও পরে নিজের কিংবা পরিবারের শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে প্রত্যাহার করতে বাধ্য হতেন। কাজ নিতে অস্বীকার করতেন। জেলা পরিষদের এক কর্তার দাবি, সিন্ডিকেটরাজের জন্য ক্ষেত্রেই কাজের গুণগত মান বজায় রাখা হয়নি। রাস্তা তৈরির মাস দু’য়েক পর থেকেই পিচ-পাথর উঠে গিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কাজ না করেই পুরো টাকা তুলে নেওয়ার মতো অভিযোগও রয়েছে। যদিও জেলা পরিষদের সভাপধিপতি এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।