Bartaman Logo
১৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তমলুক পুরসভাকে শোকজ, তিনদিনের মধ্যে জবাব তলব

তমলুক পুরসভাকে শোকজ করা হয়েছে, চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানের ইস্তফার পর প্রশাসনিক সংকটের কারণে। বিস্তারিত জানুন।

তমলুক পুরসভাকে শোকজ, তিনদিনের মধ্যে জবাব তলব
  • ১৪ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: বোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ইস্তফা দিয়েছেন। প্রশাসক নিয়োগও হয়নি। এই অবস্থায় তমলুক পুরসভায় যাবতীয় পরিষেবা ভেঙে পড়েছে। কর্মীদের মাইনেও আটকে রয়েছে। আর্থিক লেনদেনও প্রায় বন্ধ। এই অবস্থায় কেন প্রশাসক বসানো হবে না, সেই প্রশ্ন তুলে বোর্ড অব কাউন্সিলার্সকে শোকজ করল রাজ্য। সোমবার পুরদপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব এনিয়ে শোকজ চিঠি পাঠিয়েছেন। তিনদিনের মধ্যে জবাবদিহি করতে হবে। চিঠির কপি দেওয়া হয়েছে জেলাশাসক, তমলুক মহকুমা শাসককেও।

Advertisement

গত ৪মে রাজ্যে পালাবদলের পর তমলুক পুরসভার বোর্ড নিয়ে টালমাটাল শুরু হয়। চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান অনিয়মিত অফিসে যেতেন। গত ২৯জুন চেয়ারম্যান বৈদ্যনাথ সিনহা বোর্ড মিটিংয়ে ইস্তফা দেন। তারপরই ভাইস চেয়ারপার্সন নতুন বোর্ড গঠনের লক্ষ্যে ১০জুলাই মিটিংয়ের ডাক দেন। বিজেপি বোর্ড গঠনের ছক কষেছিল। কিন্তু, তাদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নিয়ে ঝামেলা শুরু হয়। এই অবস্থায় ৭জুলা‌ই ভাইস চেয়ারপার্সন সুফিয়া বেগম ইস্তফা দেন। তারপর ১০জুলাই পূর্ব নির্ধারিত বোর্ড মিটিং হয়নি। এদিকে, অবসরের পর এক্সটেনশনে থাকা পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসার নিয়মমাফিক রিলিজ নিতে দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছেন। সব মিলিয়ে অভিভাবকশূন্য হয়ে পড়ে পুরসভা।
পুরসভায় প্রশাসনিক স্তরে সংকটের কথা জানিয়ে গত ৯জুলাই ও ১১জুলাই পরপর দু’বার পুর দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ৯তারিখ দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব এবং ১১তারিখ স্পেশাল সেক্রেটারিকে চিঠি দেওয়া হয়। জানানো হয়, পরিষেবা ও প্রশাসনিক কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে। অবিলম্বে দপ্তর প্রয়োজনীয় নির্দেশ পাঠাক। তারপরই সোমবার পুরবোর্ডকে শোকজ করা হয়েছে। পরিষেবা বিঘ্নিত হওয়ায় কেন প্রশাসক বসানো হবে না সেই প্রশ্ন তুলে শোকজ করা হয়েছে। এদিন সন্ধ্যায় শোকজের কপি প্রত্যেক কাউন্সিলারের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। 
জানা গিয়েছে, চেয়ারম্যান এবং প্রশাসক কেউই না থাকায় জন্ম-মৃত্যু সার্টিফিকেট থেকে ওয়ারিশন সার্টিফিকেট ইস্যু করা যাচ্ছে না। প্রায় ৭০জন কর্মী জুন মাসের মাইনে পাননি। কারণ, চেয়ারম্যান পে অর্ডারে সই করেন। সেটা আটকে থাকায় মাইনে আটকে রয়েছে। তারসঙ্গে আর্থিক লেনদেনও আটকে রয়েছে। এই অবস্থায় পুর দপ্তরকে হস্তক্ষেপ করার আর্জি জানানো হয়েছিল। তারজেরেই এই শোকজ নোটিস বলে খবর। এই নোটিশের জবাব পাঠানোর পরই পুরসভায় প্রশাসক বসানোর বিজ্ঞপ্তি জারি হতে পারে বলে খবর।
সোমবার পুরসভার কর্মী মানব মিশ্র বলেন, এই মুহূর্তে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান কেউই নেই। তাই বোর্ড অফ কাউন্সিলার্সের শোকজ জবাব এগজিকিউটিভ অফিসারের মাধ্যমেই পাঠানো হবে। বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে দপ্তরকে অবগত করা হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ