Bartaman Logo
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

রবিবার পরিষেবা দিতে কয়েকশো কোটি টাকা খরচ হবে ব্যাংকগুলির

আগামী সোমবার থেকে তিন দিনের ব্যাংক ধর্মঘট। এই অবস্থায় গ্রাহক স্বার্থে কাল, রবিবার সবক’টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও গ্রামীণ ব্যাংকের শাখায় পরিষেবা চালু রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রবিবার পরিষেবা দিতে কয়েকশো কোটি টাকা খরচ হবে ব্যাংকগুলির
  • ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: আগামী সোমবার থেকে তিন দিনের ব্যাংক ধর্মঘট। এই অবস্থায় গ্রাহক স্বার্থে কাল, রবিবার সবক’টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও গ্রামীণ ব্যাংকের শাখায় পরিষেবা চালু রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই দিন পরিষেবা চালু রাখার কারণে ব্যাংকগুলিকে খরচ করতে হবে কয়েকশো কোটি টাকা। আর তা আসবে কোটি কোটি গ্রাহকের পকেট থেকেই। তাই ধর্মঘটীদের প্রশ্ন, শুধু জেদ বজায় রাখতে সরকার কেন এই পথে এগোচ্ছে? ধর্মঘটের তিন দিন এটিএম চার্জ সম্পূর্ণ মকুব করার কথা ঘোষণা করেছে ব্যাংকগুলি। এখানেও প্রশ্ন, শুধু তিন দিন কেন? সাধারণ গ্রাহকের পাশে দাঁড়াতে কেন সারা বছর তা মকুব করা হবে না?

Advertisement

ধর্মঘটী সংগঠনগুলির মূল মঞ্চ ইউনাইটেড ফোরাম অব ব্যাংক ইউনিয়নসের (ইউএফবিইউ) কর্তাদের বক্তব্য, প্রায় আট লক্ষ কর্মী ধর্মঘটে শামিল হবেন। এঁদের মধ্যে প্রায় পাঁচ লক্ষ কর্মীকে রবিবার কাজে যোগ দেওয়ার জন্য একদিনের বেতন বেশি দিতে হবে। গড়ে দৈনিক বেতন চার হাজার টাকা করে হিসাব কষলে বিরাট অঙ্কের টাকা বাড়তি খরচ হবে ব্যাংকগুলির। অফিসারদের দিতে হবে ওভারটাইম। এছাড়াও দেশের বিরাট সংখ্যক সংবাদ মাধ্যমকে বিজ্ঞাপন দিয়ে জানাতে হচ্ছে, রবিবার ব্যাংক খোলা আছে। তার খরচও কয়েকশো কোটি টাকা। বিজনেস করেসপন্ডেন্ট ও কাস্টমার সার্ভিস পয়েন্টগুলিতে ধর্মঘটের দিনগুলিতে কমিশন বাড়ানো হয়েছে অনেকটা। পাশাপাশি অফিস চালানোর খরচ তো আছেই। ইউএফবিইউ-এর আহ্বায়ক সুদীপ দত্ত বলেন, ‘সরকারের একটা অংশের জেদ বা ইগোর জন্য ব্যাংকগুলিকে এই খরচের বোঝা বইতে হবে। অথচ আমরা রবিবার কাজের জন্য বাড়তি টাকা চাই না। ধর্মঘটে কাজ না করার জন্য আমাদের বেতন কাটা যাবে। কিন্তু তারপরও আমরা ধর্মঘট করব।’ সুদীপবাবুর যুক্তি, সপ্তাহে পাঁচ দিন পরিষেবা চালু রাখার দাবি ২০২৪ সালে ব্যাংকগুলি আমাদের কারণে মেনেছে, এমন নয়। প্রতি শনিবার ব্যাংক বন্ধ রাখলে ব্যবসায় কী প্রভাব পড়তে পারে, তার হিসাব কষেছে তারা। তারপর রাজি হয়েছে। এরপরও কেন সরকার পাঁচ দিনের ব্যাংকিংয়ে রাজি হবে না, প্রশ্ন সেটাই। অল ইন্ডিয়া ব্যাংক অফিসার্স কনফেডারেশনের রাজ্য সম্পাদক শুভজ্যোতি চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘সরকার আমাদের চাপে রাখার কৌশল বার করলেও আমরা ধর্মঘটে যাবই। এরপর লাগাতার ধর্মঘটের কর্মসূচি আছে আমাদের।’ বেঙ্গল প্রভিন্সিয়াল ব্যাংক এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান রাজেন নাগর বলেন, ‘সরকার গ্রাহকদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য রবিবার ব্যাংক খোলা রাখার সিদ্ধান্তের কথা বলছে।  এই হাস্যকর যুক্তি সামনে না এনে তারা তো সারা বছরই এটিএম চার্জ মকুব করতে পারত। তাহলেই কোটি কোটি গ্রাহকের সুরাহা হত। রবিবার ব্যাংক খোলার জন্য এত কাণ্ড না করে পাঁচ দিনের পরিষেবা মেনে নেওয়া তাদের ক্ষেত্রে অনেক সহজ ছিল। কিন্তু নিজেদের জেদ বজায় রাখতেই সেপথে হাঁটেনি কেন্দ্র।’ এসবিআইএসএ-এর প্রাক্তন ডেপুটি চিফ সেক্রেটারি অশোককুমার মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, পেনশনভোগীরাও পেনশন বৃদ্ধির দাবিতে ওই ধর্মঘটকে সমর্থন করছেন।   

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ