‘রাজ্যে লগ্নিবৃদ্ধিতে ব্যাংকগুলিও এগিয়ে আসুক’, কলকাতায় এসে মন্তব্য নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান অশোক লাহিড়ীর
  • ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলায় বিনিয়োগ সম্ভাবনা বৃদ্ধিতে এবার ব্যাংকগুলিকেও এগিয়ে আসার ডাক দিলেন নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান অশোক লাহিড়ী। শুক্রবার কলকাতায় বণিকসভা সিআইআই আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ব্যাংকগুলি কি শুধু ঋণ দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে? তা নয়। ব্যাংকের কাছে বড়ো নেটওয়ার্ক আছে। বিজনেস নেটওয়ার্ক আছে। বড়ো শিল্পসংস্থাগুলি তাদের গ্রাহক। তাই বিনিয়োগের সুযোগ সম্পর্কে ব্যাংকগুলির ধারণা আছে। তাই তারা লগ্নির ক্ষেত্রে রাজ্যের ফেসিলিটেটর বা সু্যোগ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করতে পারে। ব্যবসাকে সঠিক আর্থিক উৎসের সঙ্গে যুক্ত করতে পারে। এতে রাজ্য এবং ব্যাংকিং সেক্টর দুটিই লাভবান হবে, দাবি তাঁর। 

Advertisement

দেশে ঋণবণ্টনে আঞ্চলিক বৈষম্যের তথ্যও তুলে ধরেন এই বাঙালি অর্থনীতিবিদ। তাঁর হিসেব, ২০২৩ সালে ক্রেডিট-টু-ডিপজিট বা ঋণ ও আমানতের অনুপাত দক্ষিণাঞ্চলে ৯৩.৬%, পশ্চিমাঞ্চলে ৮২.৮%, উত্তরাঞ্চলে ৭৭.৫% হলেও পূর্বাঞ্চলে তা মাত্র ৪৭.৫%  শতাংশ ছিল। দেশে এটা সবচেয়ে কম। এর অর্থ, পূর্বাঞ্চলে জমা পড়া ১০০ টাকা আমানত পিছু ঋণ দেওয়া হচ্ছে ৪৭.৫ টাকা। অর্থাৎ, পূর্ব ভারতে আমানতের তুলনায় ঋণপ্রদানের হার অনেক কম।  পূর্ব ভারত তথা বাংলায় এই অনুপাত কম কেন? অশোক লাহিড়ীর ব্যাখ্যা, ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করা যায়, এমন সুযোগের অভাব রয়েছে এখানে। পশ্চিমবঙ্গের মাথাপিছু আয় প্রায় ২ লক্ষ টাকা, যা জাতীয় গড়ের অনেক নীচে। শিল্পের আধুনিকীকরণে ঘাটতিও এর কারণ। এই সমস্যার সমাধানের পথও বাতলেছেন তিনি। তাঁর মতে, দুটি জিনিস দরকার। প্রথমত, গভীর সমুদ্রবন্দরের মতো বড়ো পরিকাঠামো প্রকল্পে বিনিয়োগ, যা বিনিয়োগকারীদের কাছে ইতিবাচক সংকেত পাঠাবে।
দ্বিতীয়ত, নতুন বড়ো শিল্প এবং এমএসএমই সম্প্রসারণকে উৎসাহ দেওয়া, যা প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের চাহিদা বাড়াতে সাহায্য করবে। তিনি বলেন, বড়ো বিনিয়োগ এলে, তার গুণক প্রভাব তৈরি হয়, যা আরও বিনিয়োগ টানে। ব্যাংকগুলি ‘স্ট্রাকচার্ড ক্রেডিট’ এবং ‘ক্যাপাসিটি বিল্ডিং প্রোগ্রাম’-এর মাধ্যমে ছোটো সংস্থাকে বড়ো ব্যবসায় পরিণত করতেও সাহায্য করতে পারে। এদিনই বণিকসভা বিসিসিআইয়ের অনুষ্ঠানে অশোকবাবু বলেন, পশ্চিমবঙ্গে পূর্বতন সরকার শিল্প নিয়ে সব ভুল করেছে, এমন নয়। তবে তার ফাঁকফোকরগুলি কোথায় আছে, তা নতুন সরকার ভালো করেই জানে। তাদের উচিত, সেই খামতি পূরণ করা।