নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ১৯৬৯ সালের ১৯ জুলাই ব্যাঙ্ক জাতীয়করণ হয়েছিল। সেই দিনের উদযাপনে বেসরকারিকরণের জ্বালা বোঝাতে এয়ার ইন্ডিয়ার উদাহরণ তুলে আনলেন ব্যাঙ্ক অফিসাররা। পাশাপাশি, বিএসএনএলের উদাহরণ টেনে তাঁরা প্রশ্ন তুললেন, সরকার কি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলিকেও সেই পথে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে?
শনিবার সাংবাদিক সম্মেলনে অল ইন্ডিয়া ব্যাঙ্ক অফিসার্স কনফেডারেশনের প্রাক্তন রাজ্য সম্পাদক সঞ্জয় দাস বলেন, ‘অনেকেই অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলিতে পরিষেবার ঘাটতি থাকছে। তাঁদের অভিযোগ অমূলক নয়। ২০০৫ সালে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলিতে কর্মী সংখ্যা ছিল প্রায় ৯ লক্ষ। তা এখন সাড়ে পাঁচ লক্ষে নেমে এসেছে। অথচ ব্যাঙ্কগুলির ব্যবসা বেড়েছে কয়েক গুণ। অনেকটা বেড়েছে জনধন যোজনা, মুদ্রা ঋণের মতো সরকারি পরিষেবার বহর। গ্রাহকের সংখ্যাও বেড়েছে পাল্লা দিয়ে। বেসরকারি ব্যাঙ্কে যতজন গ্রাহক শাখাগুলিতে আসেন, তার চেয়ে বহু বেশি গ্রাহক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের শাখায় ভিড় করেন। গ্রাহক পিছু কর্মীর সংখ্যা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে এত কম যে প্রতিযোগিতার বাজারে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এই পরিস্থিতিতে পরিষেবা বিঘ্নিত হওয়া স্বাভাবিক।’ তাঁর আরও ব্যাখ্যা, ‘বিএসএনএলের মতো রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাকে যেভাবে পঙ্গু করে দেওয়ার সবরকম চেষ্টা চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার, আমাদের আশঙ্কা, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির ক্ষেত্রেও সরকারের একই মনোভাব রয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়ার মতো বিমান সংস্থা যখন সরকারের হাতে ছিল, তখন আমরা দেখেছি, প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা অন্য কোনও সমস্যায় তারা বিনা পয়সায় পরিষেবা দিয়েছে। সেই সংস্থাই বেসরকারিকরণের পর আমরা কী দেখলাম? পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর তারা পরিষেবার নামে পয়সা লুটছে। সঙ্কটের সুযোগ নিয়ে বিমানভাড়া বাড়িয়ে নিয়েছে কয়েক গুণ।’ সংগঠনের বর্তমান রাজ্য সম্পাদক শুভজ্যোতি চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, ‘সরকার ব্যাঙ্কের বেসরকারিকরণে যেভাবে উঠেপড়ে লেগেছিল, সংসদে বিল আনার তোড়জোড় করেছিল, সেই চক্রান্ত আমরা লাগাতার আন্দোলনের মাধ্যমে রুখে দিয়েছি। সরকার কিছুটা হলেও পিছু হটেছে। কেন্দ্রের শাসক দল এবার যে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি, তার পিছনে দেশজুড়ে আমাদের আন্দোলনের একটা প্রভাব রয়েছে বলেই মনে করি আমরা। শুধু রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক নয়, যে কোনও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার বেসরকারিকরণের বিরোধিতা
করছি আমরা। এর জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাব।’