নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ঋণ পরিশোধ বাবদ দেওয়া টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠল ব্যাঙ্ক ম্যানেজারের বিরুদ্ধে। যার জেরে দেগঙ্গায় ব্যাঙ্কে বিক্ষোভ দেখালেন বেশ কিছু গ্রাহক। কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে বিক্ষোভ প্রত্যাহার করেন গ্রাহকরা।
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ঋণ পরিশোধ বাবদ দেওয়া টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠল ব্যাঙ্ক ম্যানেজারের বিরুদ্ধে। যার জেরে দেগঙ্গায় ব্যাঙ্কে বিক্ষোভ দেখালেন বেশ কিছু গ্রাহক। কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে বিক্ষোভ প্রত্যাহার করেন গ্রাহকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, লোন শোধের জন্য যে পরিমাণ টাকা জমা দিয়েছেন গ্রাহকরা, তার এক তৃতীয়াংশ টাকা জমা পড়েছে ব্যাঙ্কে। বিষয়টি নজরে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রাহকরা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাত ন’টা পর্যন্ত দেগঙ্গার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের কর্মী ও ম্যানেজারকে ঘিরে বিক্ষোভ চলে। পরে ব্যাঙ্কের শীর্ষ অধিকারিকরা এসে টাকা ফেরানোর আশ্বাস দিলে বিক্ষোভ উঠে যায়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, সবমিলিয়ে প্রতারণার পরিমাণ প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা।
দেগঙ্গার সোহাই-শ্বেতপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার সোহাইয়ে রয়েছে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক। এর মধ্যে সোহাই অঞ্চলের প্রায় ২০০ জনের বেশি চাষি কৃষিঋণ নিয়েছিলেন এখান থেকে। অভিযোগ, ঋণ অনেকেই পরিশোধ করেননি। পরবর্তীতে ঋণ পরিশোধ না করা চাষিদের সঙ্গে রফা করেন ব্যাঙ্কের ম্যানেজার। ঠিক হয়, এককালীন কিছু নগদ টাকা দিতে হবে ঋণ মকুবের জন্য। রফা সূত্র ধরেই চাষিরা নগদ টাকা দিয়েছিল। সেই মতো ‘ভুয়ো’ রশিদ দেওয়া হয়েছিল বলেই অভিযোগ গ্রাহকদের। গোটা পরিকল্পনার ‘মাস্টারমাইন্ড’ ম্যানেজার বলেই অভিযোগ। চাষিদের দাবি, যে পরিমাণ নগদ টাকা দেওয়া হয়েছিল, সেই টাকার একটা অংশ জমা হলেও বাকিটা ম্যানেজার আত্মসাৎ করেছেন। শুধু কৃষি ঋণ নয়, ফিক্সড ডিপোজিট, ব্যবসায়িক ঋণ সহ বিভিন্ন স্কিমের প্রায় ৩০০ জনের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। বিক্ষোভকারী রিজাউল মণ্ডল জানান, ঋণের টাকা সমঝোতার মাধ্যমে পরিশোধ করার কথা বলেন ম্যানেজার। সেইমতো এলাকার ২০০-র বেশি চাষি সেই টাকা পরিশোধ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু এর কিছুদিন পরে দেখা যায়, যে টাকা গ্রাহকরা দেন, তার তিনভাগের একভাগ জমা পড়েছে। ফলে বকেয়া টাকা শোধ করতে বারে বারে চাপ দিচ্ছিল ব্যাঙ্ক। একই অভিযোগ করেছেন নিজাম উদ্দিন। তাঁর কথায়, ব্যাঙ্কের ম্যানেজারকে এ নিয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বিভিন্নভাবে বিষয়টি এড়িয়েছেন। তখনই আমরা বুঝতে পেরেছি, এর পিছনের রহস্য রয়েছে। তাই বিক্ষোভ শুরু করি। তারপর ব্যাঙ্কের কর্তারা এসে ১৫ দিনের মধ্যে টাকা ফেরতের আশ্বাস দেন। পরে আমরা বিক্ষোভ তুলে নিই। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পঞ্চায়েতের প্রধানের স্বামী রিঙ্কু সাহাজি বলেন, এলাকার মানুষের বিক্ষোভ স্বাভাবিক। আমরা ম্যানেজারকে সমস্ত বিষয়টি জানিয়েছি।