Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ব্যাঙ্ক ঋণে মেয়েদের বিয়ে, বিষপানে মৃত্যু দম্পতির

ব্যাঙ্ক ঋণে মেয়েদের বিয়ে, বিষপানে মৃত্যু দম্পতির
  • ৭ মার্চ, ২০২৫ ১১:০৩
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: ঋণের দায়ে জর্জরিত দম্পতি। ঘরে বাইরে ব্যাঙ্কের তাড়া, লোন সংস্থার টাকা আদায়ের জন্য নিরন্তর চাপ। তার থেকে নিষ্কৃতি পেতে বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হলেন লাভপুরের দম্পতি। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে লাভপুর থানার চৌহাট্টা-মহদরি দুই নম্বর পঞ্চায়েতের বামনা গ্রামে। মৃত দম্পতির নাম লক্ষ্মণ মুখোপাধ্যায় (৬০) ও বনশ্রী মুখোপাধ্যায় (৪০) আকস্মিক এই ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে লাভপুর থানার পুলিস। বিডিও এই ঘটনাকে ‘অমানবিক’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নিজের এলাকার একটি মিষ্টির দোকানে কাজ করে যৎসামান্য উপার্জনের মাধ্যমে কোনওরকমে সংসার চালাতেন স্বামী-স্ত্রী।‌ তার মধ্যে বেসরকারি ব্যাঙ্ক ও লোন সংস্থা থেকে বেশ কিছু ঋণ নিয়ে দুই মেয়ের কোনওক্রমে বিয়ে দিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু উপার্জনের তুলনায় লোনের পরিমাণ বাড়তে থাকায় শোধ করার জন্য ব্যাঙ্ক থেকে চাপ বাড়ছিল। কীভাবে এত টাকার লোন পরিশোধ হবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় চোখের ঘুম উড়েছিল স্বামী-স্ত্রীর। এর মধ্যে কিছু লোনের কিস্তি ছিল সাপ্তাহিক ও মাসিক। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে সেই টাকা শোধ না করতে পারায় স্বামী-স্ত্রীর দিন গুজরানের পরিস্থিতি ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ে। অভিযোগ, এই পরিস্থিতিতে ব্যাঙ্ক ও সংস্থার কর্মীরা তাঁদের সঙ্গে দিনের পর দিন দুর্ব্যবহার করছিলেন। লোন শোধ করতে না পারলে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে বলেও হুমকি দেওয়া হতো। সেই কারণে, তাঁদের অপমানজনক কথাবার্তায় একপ্রকার বাধ্য হয়ে ওই দম্পতি লুকিয়ে বেড়াচ্ছিলেন বলেও স্থানীয়দের দাবি।‌ কিন্তু ঘন ঘন চাপ ও তাগাদায় আর কিছু উপায় না দেখে বুধবার বিকালে সংশ্লিষ্ট বিধানসভা এলাকার টেকেড্ডায় কুয়ে নদীর ধারে কীটনাশক খেয়ে তাঁরা আত্মহত্যা করেন। নদীর পাড়ে তাঁদের পড়ে থাকতে দেখে সন্ধ্যাবেলায় স্থানীয়রা দ্রুত বোলপুর মহকুমা সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রথমে বনশ্রী দেবী ও তার আধঘণ্টা পরে লক্ষ্মণবাবুর মৃত্যু হয়। 
এ প্রসঙ্গে বৃদ্ধের বন্ধু অমিত বন্দ্যোপাধ্যায় ও ছোট জামাই অয়ন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, দুই মেয়ের বিয়ে দেওয়ার পর অনেকদিন ধরে লক্ষ্মণবাবুর পরিবারে আর্থিক অনটন চলছিল। বেশ কিছুদিন ধরে লোনের কিস্তির টাকার চাপ বাড়ছিল, ব্যাঙ্ক কর্মীরা দিনের পর দিন বাড়িতে এসে অপমান ও দুর্ব্যবহার করছিলেন। ঘর ছাড়ানোর হুমকিও দিয়েছিলেন। ঋণের জ্বালায় তাঁরা কার্যত লুকিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। তাঁদের চাপের কারণেই ওই দম্পতি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হলেন। দম্পতির মৃত্যুতে লাভপুরের বিডিও শিশুতোষ প্রামাণিকও অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। তিনি বলেন, ‘খুবই অমানবিক ঘটনা ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক ও লোন সংস্থার কাছে এর জবাবদিহি চাওয়া হবে। দোষী প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইন মেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া 
হবে।’  ফাইল চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ