Bartaman Logo
৩ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পৈতৃক ভিটে ফিরে পেতে মুখ্যমন্ত্রীকে আরজি জানাল বাণীকুমারের পরিবার

দেবীপক্ষের আগমনে ভোরে বাঙালির ঘুম ভাঙে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের মহিষাসুরমর্দিনীর সুরে। মহিষাসুরমর্দিনী গীতিআলেখ্যটির রচয়িতা বাণীকুমার।

পৈতৃক ভিটে ফিরে পেতে মুখ্যমন্ত্রীকে আরজি জানাল বাণীকুমারের পরিবার
  • ৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অমিত চৌধুরী, তারকেশ্বর; দেবীপক্ষের আগমনে ভোরে বাঙালির ঘুম ভাঙে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের মহিষাসুরমর্দিনীর সুরে। মহিষাসুরমর্দিনী গীতিআলেখ্যটির রচয়িতা বাণীকুমার। তাঁর পৈতৃক বাড়ি হুগলি জেলার আঁটপুর পঞ্চায়েতের লোহাগাছি গ্রামে। সে বাড়ির প্রায় আড়াই বিঘা জমি ফিরে পেতে মুখ্যমন্ত্রী ও জেলাশাসক দপ্তরে আবেদন জানাল পরিবার। তৃণমূল আমলে ভিটেতে গিয়ে অপমানিত হতে হয়েছিল বাণীকুমারের পুত্র অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ৮৬ বছরের নৃসিংহ ভট্টাচার্যকে।

Advertisement

রাজ্যে সরকার পরিবর্তন হয়েছে। এখন পরিবারের সদস্যরা চাইছেন তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি সরকারিভাবে জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহৃত হোক। ভিটেতে তৈরি হোক বাণীকুমারের নামে বিশেষ ভবন। স্বামী বিবেকানন্দের সন্ন্যাস গ্রহণের পীঠস্থান আঁটপুরে অন্যান্য ঐতিহাসিক স্থানের সঙ্গে যুক্ত হোক এই ভিটেও। পর্যটন মানচিত্রে যুক্ত হোক বাণীকুমারের নামও।
১৯০৭ খ্রিস্টাব্দের ২৩ নভেম্বর জন্ম বৈদ্যনাথ ভট্টাচার্যের। আঁটপুরের বাসিন্দা ইতিহাসের ও সংস্কৃতের পণ্ডিত বিধুভূষণ ভট্টাচার্য ও অপর্ণাদেবীর বড়ো পুত্র বাণীকুমার ওরফে বৈদ্যনাথ ভট্টাচার্য। ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে আকাশবাণীতে ‘প্রত্যুষ প্রোগ্রাম’ শিরোনামে মহাষষ্ঠীর সকালে অনুষ্ঠানটি প্রথম সম্প্রচারিত হয়। প্রথম দু’বছর ষষ্ঠীর ভোরে সম্প্রচারিত হয়েছিল। ৮ অক্টোবর ১৯৩৪ প্রথমবার মহালয়ার সকালে গীতিআলেখ্যটি সম্প্রচার করা হয়। ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে অনুষ্ঠানের নাম দেওয়া হয় ‘মহিষাসুর বধ’। ১৯৩৭ সালে অনুষ্ঠানের নামকরণ হল ‘মহিষাসুরমর্দিনী’। সে অনুষ্ঠান এখনও, এই ৯০ বছর পরও বাঙালির হৃদয় আলোড়িত করে রেখে দিয়েছে।
এই পরিবারের সঞ্জয় ভট্টাচার্য জানান, পৈতৃক ভিটে, মাঠ, জমি সহ প্রায় ৮০ শতক জায়গা আছে। এর যাবতীয় নথি আমাদের কাছে আছে। ২০২৪ সালে বাণীকুমারের ছেলে ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটির প্রাক্তন অধ্যাপক জাঙ্গিপাড়া থানায় লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন, কর্মজীবনে ব্যস্ত থাকায় পৈতৃক ভিটে রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারেননি। পরবর্তী সময় জমির মাপজোক ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে আসার পর কিছু মানুষ বাধা দেন। তারপর বহুবার কাজ করতে বাধা দেন তাঁরা। তখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের এ বিষয়ে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। বাঙালির গর্ব বাণীকুমারের পৈতৃক সম্পত্তি সরকার নিয়ে সামাজিক কাজে ব্যবহার করুক। পৈতৃক ভিটেতে মূর্তি স্থাপন করে ওঁর কর্মকাণ্ড ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা হোক।  পৈতৃক বাড়িতে বাণীকুমারের পুত্র নৃসিংহ ভট্টাচার্য।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ