নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ছুটতে থাকা যুব প্রজন্মের হাতে নগদের জোগান বাড়াতে নয়া উদ্যোগ নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার ভোটমুখী রাজ্য বাজেটে তাঁর সরকারের ঘোষণা, ‘বাংলার যুবসাথী’। এই প্রকল্পের মাধ্যমে মাধ্যমিক পাশ কর্মহীন যুবক-যুবতীদের প্রতি মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেবে রাজ্য। কারা পাবেন এই সুবিধা? ২১ থেকে ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত মাধ্যমিক পাশ কর্মহীন যুবক-যুবতীরা আসছেন ‘বাংলার যুবসাথী’র ছাতার নীচে। যতদিন না কর্মসংস্থান নিশ্চিত হচ্ছে, অথবা সর্বাধিক পাঁচ বছর পর্যন্ত তাঁরা এই আর্থিক সহায়তা পাবেন। তবে যাঁরা ইতিমধ্যে কোনো সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় রয়েছেন (শিক্ষা সংক্রান্ত ভাতা বা স্কলারশিপ বাদে), তাঁরা এর সুবিধা পাবেন না।
বৃহস্পতিবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যেপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে চার মাসের ‘ভোট অন অ্যাকাউন্ট’ পেশ করেন রাজ্যের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। সেখানেই কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে রাজ্যের নেওয়া একাধিক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি ‘শিক্ষিত কর্মহীনদের’ পাশে দাঁড়াতে এই নয়া ঘোষণা করা হয়। আগামী ১৫ আগস্ট থেকে এই প্রকল্প রাজ্য কার্যকর করবে বলেও এদিন বাজেট বক্তৃতায় জানিয়েছেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে এটাই শেষ বাজেট। অর্থাৎ, চতুর্থবার সরকারে এলে এই প্রকল্প চালু করবে মমতা বন্দ্যেপাধ্যায়ের সরকার।
‘বাংলার যুবসাথী’ বাস্তবায়নের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে পাঁচ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের ফলে শিক্ষিত যুবসমাজের উপর আর্থিক চাপ অনেকটাই কমবে এবং তাঁরা চাকরির প্রস্তুতিতে আরও মনোযোগী হতে পারবেন বলেই মত রাজ্যের। ২০২৫ সালের শেষ তিন মাসে গোটা দেশে চাকরি খুইয়ে বেকার হয়েছেন ৩ কোটি ২৯ লক্ষ মানুষ। অথচ, ১ ফেব্রুয়ারির কেন্দ্রীয় বাজেটে বেকারত্ব ঘোচাতে মোদি সরকার কোনো পদক্ষেপই নেয়নি বলে দাবি করেছে বিরোধী দলগুলি। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের এই প্রকল্প বাংলায় বেকারত্বের হার কমাতে সাহায্য করবে বলেই মত বিশেষজ্ঞ মহলের। এদিন বাজেট বক্তৃতায় রাজ্যে বেকারত্বের হার হ্রাসের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। কেন্দ্রের ‘পিরিয়ডিক লেবার ফোর্স সার্ভে’ রিপোর্ট উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ২০১৭-১৮ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষের মধ্যে বাংলায় বেকারত্ব কমেছে ৪৫.৬৫ শতাংশ। ‘বাংলার যুবসাথীর’ হাত ধরে তা আরও কমবে বলেই এদিন দাবি করা হয়েছে রাজ্যের তরফে।



