Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বাংলার বাড়ি প্রকল্প, দেওয়া টাকা ফেরত পেতে পঞ্চায়েতকে জানান, মাইকিং ঘিরে বিতর্ক

‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে বাড়ি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন পঞ্চায়েত সদস্য। তা ফেরত দেওয়ার জন্য পঞ্চায়েতে আবেদন করুন।

বাংলার বাড়ি প্রকল্প, দেওয়া টাকা ফেরত পেতে  পঞ্চায়েতকে জানান, মাইকিং ঘিরে বিতর্ক
  • ২৪ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে বাড়ি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন পঞ্চায়েত সদস্য। তা ফেরত নেওয়ার জন্য পঞ্চায়েতে আবেদন করুন। রবিবার তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে মাইকিং ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। ঘটনাটি হাড়োয়ার গোপালপুর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার। যদিও পঞ্চায়েত সদস্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এই ঘটনায় তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের। 

Advertisement

প্রথম দফায় ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে টাকা দিয়েছে রাজ্য। আর এক্ষেত্রে কেউ যদি বেনিয়ম করে সেক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই নির্দেশ তোয়াক্কা না করার অভিযোগ উঠল  হাড়োয়া বিধানসভা এলাকায়। এই বিধানসভার অন্তর্গত গোপালপুর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৭১ নম্বর বুথে তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য শাহজাহান আলি বিশ্বাসের বিরুদ্ধে উঠল টাকা নেওয়ার অভিযোগ। বিষয়টি অবশ্য চার দেওয়ালে বন্দি নেই। মাইকিং করে চলল প্রচারও। সূত্রের খবর, শাহজাহানের সঙ্গে দলের একাংশের বিরোধ রয়েছে। এবার তাঁর বিরুদ্ধে আবাস যোজনায় ‘কাটমানি’ নেওয়ার অভিযোগে সরব উপভোক্তা থেকে তৃণমূল নেতারা। তাঁদের অভিযোগ, কারও কাছে পাঁচ হাজার, কারও কাছে ১০ হাজার টাকা নিয়েছেন শাহজাহান। কমপক্ষে ৩০ জনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন তিনি। অভিযোগ, টাকা না দিলে বাড়ির টাকা আটকে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেন শাহজাহান। উপভোক্তা মইনুল মণ্ডল ও আসাদুল মল্লিক বলেন, পঞ্চায়েত সদস্য শাহজাহান বাড়ি তৈরির জন্য টাকা নিয়েছে আমাদের থেকে। না দিলে দ্বিতীয় দফার টাকা দেবে না বলে হুমকি দেয়। বাধ্য হয়ে টাকা দিতে হয়েছে। নাম না প্রকাশের শর্তে আরেক বাসিন্দা জানিয়েছেন, বাংলার বাড়ি প্রকল্পে দ্বিতীয় পর্যায়ে বাড়ির তালিকা প্রস্তুত হয়েছে। সেখানেও পঞ্চায়েত সদস্য আগে থেকে টাকা দাবি করে রেখেছেন। এনিয়ে তৃণমূলের অঞ্চল কমিটির নেতা নজরুল মণ্ডল বলেন, আমরা এলাকার মানুষের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর মাইকিং করছি। মানুষ যদি ভয়ে পঞ্চায়েত সদস্যকে টাকা দেন, তাহলে ব্যবস্থা নেবে পঞ্চায়েত। দলের তরফেই মাইকিং করা হল। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, কোনও কাটমানি চলবে না। তারপরও এই কারবার চলছে। পালটা শাহজাহান বিশ্বাস বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমাকে কালিমালিপ্ত করতেই মাইকিং করছে বিরোধীরা। আমি কখনও কারও কাছে টাকা নিই না। আমি যদি টাকা নিয়ে থাকি, ওরা প্রমাণ করুক। অযথা কুৎসা রটিয়ে লাভ হবে না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ