ঢাকা: মহম্মদ ইউনুসের সঙ্গে কি চরম সংঘাতের পথে হাঁটতে চলেছেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান? একাধিক গোয়েন্দা সূত্রে খবর, ইউনুসকে প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে সরাতে সব পথ খতিয়ে দেখতে সক্রিয় হয়েছেন ওয়াকার। এর আগে ডিসেম্বরের মধ্যেই সাধারণ নির্বাচন করতে হবে ইউনুসকে কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন সেনাপ্রধান। তারপরেই জল্পনা রটে, ইউনুস ইস্তফা দিতে পারেন। যদিও সেই সিদ্ধান্ত থেকে তিনি সরে এসেছেন বলে দাবি অন্য উপদেষ্টাদের। গোয়েন্দা সূত্রগুলি জানিয়েছে, সাধারণ নির্বাচনের জন্য পরের বছরের জুন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে কোনওভাবেই রাজি নন ওয়াকার। তাই সেনা অভ্যুত্থান ছাড়াও আর কোন পথে ইউনুসের অপসারণ সম্ভব তা নিয়ে ঘনিষ্ঠমহলে আলোচনা শুরু করেছেন তিনি। বাংলাদেশের সংবিধানে এই নিয়ে কী সংস্থান রয়েছে, তাও দেখা হচ্ছে। গদি বাঁচাতে ফের ভারত বিদ্বেষকেই হাতিয়ার করেছেন ইউনুস। রবিবার বিভিন্ন দলের সঙ্গে বৈঠক চলাকালীন তিনি দাবি করেন, আধিপত্য শেষ হওয়ায় রাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে ভারত।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, কোনও সরকারের মেয়াদ শেষের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। হাসিনার দেশত্যাগ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় দশ মাস অতিক্রান্ত। সূত্রের মতে, সাংবিধানিকভাবেই ইউনুসের সরকার এখন নড়বড়ে। ওয়াকারের পাশাপাশি সেনার শীর্ষ আধিকারিকদের অনেকেই মনে করছেন, নির্বাচনে দেরি করার অর্থ সংবিধানকে লঙ্ঘন করা। তাই রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহবুদ্দিনের উপর চাপ তৈরি করে জরুরি অবস্থা জারি করা নিয়েও ভাবনাচিন্তা করা হচ্ছে। ইউনুস যদি নিজে সরে না যান, তাহলে রক্তপাত ছাড়াই অস্থায়ীভাবে বাংলাদেশের ক্ষমতা নিজের হাতে নিতে পারেন সেনাপ্রধান। এই পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনার আওয়ামি লিগ ও খালেদা জিয়ার বিএনপি যাতে একসঙ্গে নির্বাচনে অংশ নেয়, তার জন্য সচেষ্ট হয়েছেন সেনাপ্রধান। সূত্রের খবর, জরুরি অবস্থা জারি হলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে ভেঙে দিয়ে দ্রুত নির্বাচনের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করা হয়। এই পরিস্থিতিতে অনেকে ২০০৭ সালের প্রসঙ্গও টেনে এনেছেন। সেবারও সংবিধানকে হাতিয়ার করে সেনাবাহিনী বাংলাদেশে ‘কেয়ারটেকার’ সরকার গঠন করেছিল।
একদিকে যখন সেনার চাপ, তখন ইউনুসের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও বাড়িয়েছেন সরকারি কর্মীরা। সম্প্রতি সরকারি কর্মী-আধিকারিকদের জন্য নতুন অর্ডিন্যান্স আনার পরিকল্পনা করেছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। সেই অর্ডিন্যান্সে তদন্ত ছাড়াই মাত্র ৮ দিনের নোটিসে চাকরি থেকে সাসপেন্ড, বরখাস্ত ও শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। আর তারপর থেকেই সারা দেশের প্রশাসনিক কাজকর্মের মূল কেন্দ্র ঢাকার সচিবালয়ে বিক্ষোভ চলছে। সোমবার সেই আন্দোলনের ঝাঁঝ আরও বেড়েছে। মঙ্গলবারের মধ্যে চাকরি সংক্রান্ত নতুন অর্ডিন্যান্স বাতিল করা না হলে সারা দেশে কর্মবিরতি পালন করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য ফোরাম। সোমবারও বিভিন্ন মন্ত্রক ও দপ্তরের কর্মীরা ব্যাপক বিক্ষোভ দেখান। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিরুদ্ধে ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগানও ওঠে।
অন্যদিকে, হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের জন্য বিশেষ ‘কোটা’ চালুর কথা জানাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ‘জুলাই-আগস্ট আন্দোলন’-এ মৃত ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা স্নাতকস্তরের প্রথম বর্ষে ভর্তির ক্ষেত্রে এই বিশেষ সুবিধা পাবে। তবে শুধুমাত্র চলতি শিক্ষাবর্ষেই এই সুবিধা মিলবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।