সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: জাল নোট পাচারের দায়ে এক বাংলাদেশি যুবককে সাজা শোনালেন জঙ্গিপুর অতিরিক্ত দায়রা আদালতের বিচারক। শনিবার জঙ্গিপুর ফাস্ট ট্র্যাক ফার্স্ট কোর্টের বিচারক অনিলকুমার প্রসাদ এই রায় দিয়েছেন। দোষীর নাম মনিরুল শেখ ওরফে জুন্নুর। তার বাড়ি বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবপুর থানা এলাকায় হলেও সে কয়েক বছর যাবৎ সাগরদিঘিতে থাকত। সেখানেই সে অবৈধভাবে ভারতীয় কাগজপত্র তৈরি করেছিল। সে গোপনে জাল নোটের কারবার করত। দোষী যুবককে জালনোট পাচার ও অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের জন্য চার বছর কারাদণ্ড ও অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের জন্য চার বছর সাজা শুনিয়েছেন বিচারক। সঙ্গে দশ হাজার টাকা আর্থিক জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছ’মাস কারাবাসের সাজা শোনানো হয়। দু’টি সাজাই সমান্তরালভাবে চলবে বলে আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে।
জানা গিয়েছে, সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি ২০২২ সালের ৬ জানুয়ারি সামশেরগঞ্জের সীমান্তবর্তী গাম্বারতলায় আসে। সামশেরগঞ্জ থানার পুলিসের একটি দল গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সেখানে আগে থেকেই ওৎ পেতে ছিল। ওই যুবককে সেখানে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখে পুলিস তাকে আটক করে। তল্লাশি চালাতেই তার কাছ থেকে ভারতীয় পাঁচশো টাকার ৪৯৫টি মোট প্রায় আড়াই লাখ টাকা জাল নোট উদ্ধার হয়। পরে ওই সে জাল নোট পাচারের কথা স্বীকার করে। সে পুলিসকে আরও জানায় জাল নোটগুলি এক বাংলাদেশি যুবকের কাছে থেকে সে সংগ্রহ করেছে। হাতবদল করতেই সেখানে নিয়ে গিয়েছিল। সে আরও জানায়, তার বাড়ি বাংলাদেশে। সাগরদিঘিতে এসে সে রাজমিস্ত্রির কাজ করত। সেখানেই সে অবৈধভাবে ভারতীয় ভোটার, আধার কার্ড সহ যাবতীয় নথিপত্র তৈরি করে। এদিন মনিরুল বলে, বাংলাদেশে কাজকর্ম তেমন নেই। কাজের সন্ধানেই সে ভারতে এসেছে। সরকারি আইনজীবী রাজনারায়ণ মুখোপাধ্যায় বলেন, মনিরুল অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে ও জালনোট কারবার শুরু করে। ভারতীয় অর্থনীতিকে ধ্বংস করার অপরাধে সাজা শোনাল আদালত। আশাকরি তাতে এই ধরবেন অপরাধ কমবে। • নিজস্ব চিত্র