সংবাদদাতা, বারুইপুর: মাত্র ২২০০ টাকায় বাংলাদেশ থেকে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকেছিল যুবক। ১১ বছর নাম বদলে দিব্যি বসবাস করছিল সে। অবশেষে সোমবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে আমির হামজা নামে ওই যুবককে গ্রেফতার করল বারুইপুর থানার পুলিশ। তার বাড়ি বাংলাদেশের সাতক্ষীরায়। ধৃতকে জেরা করে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেলেন তদন্তকারীরা। আমির ছাড়াও সেই সময় আরও ২৫ জন অনুপ্রবেশকারী সামান্য টাকার বিনিময়ে এপারে প্রবেশ করেছে। কিন্তু তারা কোথায়, সেটা কেউই জানেন না। পুলিশের কাছেও নেই কোনও সূত্র। ধৃতকে হেপাজতে নিয়ে ওই বাংলাদেশি নাগরিকদের খোঁজ করবেন তদন্তকারীরা।
বারুইপুর থানার চম্পাহাটির সোলগোয়ালিয়া এলাকায় থাকছিল আমির। তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, এক ব্যক্তির সাহায্যে ১২ হাজার টাকার বিনিময়ে সে সঞ্জয় মণ্ডল নামে জাল ভোটার কার্ড বানিয়েছিল। কে সেই ব্যক্তি, তার খোঁজ শুরু হয়েছে। এদিকে, আমির জেরায় জানিয়েছে, সে ২০১৪ সালে বাংলাদেশ থেকে এক দালালকে ২২০০ টাকা দিয়ে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট সীমান্ত দিয়ে রাজ্যে ঢুকেছিল। সন্দেশখালিতে কিছুদিন থাকার পর সেখান থেকে মুম্বই যায়। মাস তিনেক আগে বারুইপুরের সোলগোয়ালিয়াতে এসে থাকতে শুরু করে। এখানে একটি ইমারতি দ্রব্যের দোকানে কাজ করছিল।
একইভাবে ওপার থেকে প্রায় ২৫ জন ২২০০ থেকে ২৫০০ টাকা করে দিয়ে সীমান্ত পার হয়েছিল। তারা কোথায় রয়েছে, কাদের মাধ্যমে তারা সীমান্ত পার হয়েছিল সেই প্রশ্নও উঠছে। এদিকে, আমির মুম্বইয়ে কী করছিল, সেখান থেকে অন্য কোথাও গিয়েছিল কি না তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
রবিবারও ওই এলাকা থেকে এক বাংলাদেশি যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরপর এমন ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়। তাহলে কি সেখানে আরও অনুপ্রবেশকারী আছে? প্রশ্ন স্থানীয় বাসিন্দাদের। তাঁরা বলেন, শাসক দলের কিছু স্থানীয় নেতাদের মদতেই এরা দিনের পর দিন এখানে থাকছে। কোনও নজরদারি নেই পঞ্চায়েতের। যদিও চম্পাহাটি পঞ্চায়েত প্রধান অসিতবরণ মণ্ডল বলেন, কে নিজের নাম বদল করে এখানে বাস করছে, আমাদের জানা ছিল না। এবার পঞ্চায়েত থেকে নজরদারি চালাব।