সংবাদদাতা, বনগাঁ: ‘ওদের ১০০ বছরেও ক্ষমতা হবে না হাসিনাকে ফাঁসি দেওয়ার।’ মঙ্গলবার ভারতে চিকিৎসা করাতে এসে এমনই মন্তব্য করলেন বাংলাদেশের বাসিন্দা মহম্মদ জামিল হোসেন (নাম পরিবর্তিত)। পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে আসেন তিনি। হাসিনার সাজা প্রসঙ্গ তুলতেই রেগে কাঁই তিনি। এরপর ওই ব্যক্তি বলেন, ‘এটা কোনও রায়ই নয়। বাংলাদেশে এখন রাজাকারদের সরকার চলছে। যে এই সাজা শুনিয়েছে, সে নিজেই রাজাকার! ওদের ১০০ বছরেও ক্ষমতা হবে না হাসিনাকে ফাঁসি দেওয়ার।’
বাংলাদেশের ইতিহাসে হাসিনার অবদানের কথা তুলে ধরে বর্তমান সরকারের সমালোচনা করেন ওই ব্যক্তি। পাশাপাশি বাংলাদেশের পাশে থাকার জন্য ভারতের প্রশংসা করেন তিনি।
গতবছর জুলাই অভ্যুত্থানে ‘মানবতা-বিরোধী’ অপরাধের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। সোমবার তাঁকে ফাঁসির সাজা দেয় ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবিউনাল। এরপরই দেশজুড়ে হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশের একাধিক এলাকা থমথমে। ট্রেন বাস চলছে অল্পই। দোকানপাট খুললেও তাড়াতাড়ি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বলে জানান এদেশে আসা একাধিক বাংলাদেশি বাসিন্দা। মেডিকেল ভিসায় মঙ্গলবার পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে আসেন বাংলাদেশের আর এক বাসিন্দা বিপ্লব দাস (নাম পরিবর্তিত)। দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর সাজা প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, যারা হাসিনার বিচার করেছে তারা রাজাকারদের পরিবারের সদস্য। এই মুহূর্তে সেদেশের পরিস্থিতি ভালো না বলেও জানান তিনি।
এদেশে আসা বাংলাদেশিদের দাবি, শেখ হাসিনার সাজা ঘোষণার পর দেশের একাধিক জায়গায় অশান্তি ছড়িয়ে পড়েছে। বাসিন্দারা রয়েছেন রীতিমতো আতঙ্কের মধ্যে। এই রায় মেনে নিতে না-পারলেও আতঙ্কে মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছেন প্রায় সকলেই। তাঁদের দাবি, এদেশে এসে রায়ের বিপক্ষে মুখ খুললে দেশে ফিরে রোষের মুখে পড়তে হতে পারে। তাই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাইছেন না তাঁরা।
তবে বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে এই রায়ে খুশির হাওয়া। এদিন পেট্রাপোল সীমান্তে আগত বিএনপি সমর্থক এক ব্যক্তির মুখে শোনা গেল উলটো সুর। তিনি বলেন, ‘অন্যায় করলে তাঁকে সাজা পেতেই হবে।’ পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে ঢুকছেন পর্যটকরা -নিজস্ব চিত্র