Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পাড়ের কাছাকাছি ঘেঁষতে পারবে না বাংলাদেশি জাহাজ, এক জায়গায় দাঁড়ানো যাবে না দীর্ঘক্ষণ

বর্তমান পরিস্থিতিতে সুন্দরবনের জলপথ দিয়ে আনাগোনা বেড়েছে বাংলাদেশি জাহাজের।

পাড়ের কাছাকাছি ঘেঁষতে পারবে না বাংলাদেশি জাহাজ, এক জায়গায় দাঁড়ানো যাবে না দীর্ঘক্ষণ
  • ১০ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বর্তমান পরিস্থিতিতে সুন্দরবনের জলপথ দিয়ে আনাগোনা বেড়েছে বাংলাদেশি জাহাজের। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে প্রশাসন থেকে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ। জলপথ দিয়ে অনুপ্রবেশের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই অবস্থায় কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করছে পুলিস-প্রশাসন। বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক জল সীমানা পার করে যেই মুহূর্তে এপারে ঢুকছে জলযানগুলি, তখনই তাদের উপর লাগু করা হচ্ছে বেশ কিছু নিয়ম। পুলিস জানিয়ে দিয়েছে, ওই জাহাজগুলি কোনওভাবেই পাড়ের কাছাকাছি এলাকা দিয়ে যেতে পারবে না। পাড়সংলগ্ন যেসব জায়গায় গ্রাম আছে, সেই গ্রামগুলির ধারেকাছে ঘেঁষতে পারবে না জাহাজ বা জলযানগুলি। ভাটা চললেও নদীতে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা যাবে না। কোন জলযান কোথায় এবং কতক্ষণ দাঁড়াচ্ছে, পুলিস সবটা নজরে রাখছে। কেউ যাতে জাহাজ থেকে বেরিয়ে গ্রামে ঢোকার চেষ্টা না করতে পারে, সেদিকেও কড়া নজর রাখছেন পুলিস আধিকারিকরা।

Advertisement

বাংলাদেশি জাহাজগুলি সাধারণত উত্তর ২৪ পরগনার হেমনগর পার করে কুমিরমারী, ছোট মোল্লাখালি, পাখিরালয় হয়ে চলে যাচ্ছে নামখানা এবং ভায়া সাগর কলকাতায়। গোটা এই যাত্রাপথে ২০টির বেশি গ্রাম রয়েছে  উপকূলবর্তী এলাকায়। সেসব গ্রামের বাসিন্দারা বলছেন, বড় বড় জাহাজ যাওয়ার সময় নদীতে বিশাল ঢেউ তৈরি হয়। সেই ঢেউ আছড়ে পড়ছে নদীবাঁধে। এমনিতেই বাঁধগুলি দুর্বল। তার উপর ঢেউয়ের ঝাপটায় ধীরে ধীরে বাঁধের নীচের অংশের মাটি ক্ষয় হচ্ছে। দ্রুত এই প্রবণতা বন্ধ না করা গেলে, বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হবে গ্রামের পর গ্রাম। আরও জানা গিয়েছে, বড় জাহাজগুলির ঘণ্টায় ৮০ লিটার ডিজেল লাগে। দিনে কম করে হলেও এখন ১০০টির বেশি জাহাজ পারাপার করছে সুন্দরবনের নদীপথ দিয়ে। সেক্ষেত্রে কী পরিমাণ দূষণ হচ্ছে, তা সহজেই অনুমেয়। এতে জলজ প্রাণীদেরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে বলে দাবি বিশেষজ্ঞদের।  সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভের ডেপুটি ফিল্ড ডিরেক্টর জোন্স জাস্টিন বলেন, ডলফিন ও অন্যান্য বড় জলজ প্রাণী জাহাজের ধাক্কায় মারা যাচ্ছে। মৎস্যজীবীরা জাল ফেলতে পারছেন না। সুন্দরবনের এই ক্ষতি নিয়ে সরব হয়েছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের উপাধ্যক্ষ অনিমেষ মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘অবিলম্বে বাংলাদেশি জাহাজের যাতায়াতের সংখ্যা কমানো দরকার। নাহলে সুন্দরবনের বড়সড় ক্ষতি হয়ে যাবে। যেহেতু আন্তর্জাতিক জল সীমানা পেরিয়েই জাহাজগুলি ঢুকছে, তাই সুন্দরবন রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকারকেও নিতে হবে।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ