Bartaman Logo
৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মেমারি থেকে ভোটার কার্ড করেছিলেন বাংলাদেশি শান্তা, তদন্তে নেমে তথ্য পেল পুলিস

যাদবপুরের বিক্রমগড় থেকে ধৃত বাংলাদেশি মডেল-অভিনেত্রী শান্তা পাল ভোটার কার্ডও করিয়েছিলেন এই রাজ্য থেকে। বর্ধমানের মেমারির ঠিকানায় ২০২৩ সালে ইস্যু  করা হয় ওই কার্ড।

মেমারি থেকে ভোটার কার্ড করেছিলেন বাংলাদেশি শান্তা, তদন্তে নেমে তথ্য পেল পুলিস
  • ২ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যাদবপুরের বিক্রমগড় থেকে ধৃত বাংলাদেশি মডেল-অভিনেত্রী শান্তা পাল ভোটার কার্ডও করিয়েছিলেন এই রাজ্য থেকে। বর্ধমানের মেমারির ঠিকানায় ২০২৩ সালে ইস্যু  করা হয় ওই কার্ড। তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য পেয়েছে লালবাজার। ওই ভোটার কার্ড বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে খবর।  মেমারির একটি এলাকার ভোটার হয়ে, ২০২৪’এর লোকসভা নির্বাচনে ভোটও দিয়েছিলেন বলে জানা যাচ্ছে। যার মাধ্যমে তিনি এই ভোটার কার্ড তৈরি করেছিলেন, তাকে চিহ্নিত করেছেন তদন্তকারীরা। 

Advertisement

শান্তা পালের বিরুদ্ধে তদন্ত এগনোর সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন তথ্য পাচ্ছেন তদন্তকারীরা।  জিজ্ঞাসাবাদে বহু  প্রশ্নেরই উত্তর এড়িয়ে যাচ্ছেন তিনি। যে কারণে তাঁকে নিয়ে ধোঁয়াশা আরও বাড়ছে। এমনকী বিভিন্নরকম কথা বলে তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টাও চালাচ্ছেন। তদন্তকারীরা বুঝতে পারছেন, কোনও একটা বিষয় গোপন করার চেষ্টা করছেন বাংলাদেশি এই মডেল। প্রথমে তিনি গোয়েন্দাদের জানিয়েছিলেন, ট্র্যাভেল এজেন্টের ব্যবসা খুলেছিলেন। মূলত বাংলাদেশি নাগরিকদের গাড়ি ভাড়া দেওয়া হতো। কলকাতা সহ বিভিন্ন জেলায় বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়ে যেত গাড়ি। এমনকী তিনি নিজেও গাইড হিসেবে যেতেন তাঁদের সঙ্গে। সেখানে রিলস করতেন। তদন্তকারীরা জানতে চান, ট্রাভেল সংস্থা চালানোর জন্য  গাড়ি কি তিনি ভাড়া নিয়েছিলেন নাকি কিনেছিলেন? বয়ান বদল করে জানান, তিনি কোনও ট্র্যাভেল এজেন্সি চালাতেন না। তদন্তকারীদের সন্দেহ এমন কোনও বাংলাদেশি নাগরিক তাঁর কাছে গাড়ি ভাড়া নিতেন, যাঁর পরিচয় গোপন করতে চাইছেন অভিযুক্ত। যে কারণে বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি ভারতে একজন বাংলাদেশি কীভাবে ব্যবসা খুলল, এই নিয়ে প্রশ্ন উঠবে জেনেই বারবার বয়ান পাল্টাচ্ছেন।  
তদন্তে জানা যাচ্ছে, শান্তার কাছে বাংলাদেশ থেকে প্রায়ই বিভিন্ন লোকজন আসতেন। তাঁদের আত্মীয় বলে পরিচয় দিতেন তিনি। কিন্তু কেউই তাঁর আত্মীয় ছিলেন না বলে জানা যাচ্ছে। বৈধ ভিসা ও পাসপোর্টে আসা ওই বাংলাদেশি নাগরিকরা এখানে আসার পর তাঁদের আধার, রেশন, ভোটার কার্ড, জন্মের শংসাপত্র সহ বিভিন্ন সার্টিফিকেট করে দিয়েছেন শান্তা। 
দালাল চক্রের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল বলে জানা যাচ্ছে।  ভুয়ো ভারতীয় নথি তৈরি করে দিয়ে তিনি প্রচুর টাকা রোজগার করেছেন। যাঁরা এই নথি করিয়েছিলেন, তাঁরা এখানে পাকাপাকিভাবে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে বসবাস করছেন। শান্তার মাধ্যমে কারা জাল নথি পেয়েছিলেন, তাঁদের চিহ্নিত করার চেষ্টা হচ্ছে। -ফাইল চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ