Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বাংলাদেশি প্রিয়া খাতুনই নাম পাল্টে অদিতি পাত্র, পানিহাটিতে অনুপ্রবেশকারী গ্রেপ্তার কাণ্ডে নয়া মোড়

পুলিস জেনেছে, আবাসনে ফ্ল্যাট ভাড়া নেওয়া অদিতি পাত্রের আসল নাম প্রিয়া খাতুন।

বাংলাদেশি প্রিয়া খাতুনই নাম পাল্টে অদিতি পাত্র, পানিহাটিতে অনুপ্রবেশকারী গ্রেপ্তার কাণ্ডে নয়া মোড়
  • ৩০ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: পানিহাটিতে বাংলাদেশি গ্রেপ্তার কাণ্ডে নয়া মোড়। পুলিস জেনেছে, আবাসনে ফ্ল্যাট ভাড়া নেওয়া অদিতি পাত্রের আসল নাম প্রিয়া খাতুন। সে চোরা পথে বাংলাদেশ থেকে এসেছিল। পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথির ঠিকানা দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল জাল ভোটার কার্ড, আধার কার্ড ও প্যান কার্ড। বুধবার অদিতির ফ্ল্যাটে থাকা দুই বাংলাদেশিকে পুলিস গ্রেপ্তার করেছিল। বৃহস্পতিবার অদিতি ওরফে প্রিয়াকে পুলিস গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতকে এদিন বারাকপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক ছ’দিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতদের জেরা করে অনুপ্রবেশকারীদের পাশাপাশি জাল নথি তৈরি চক্রের পর্দা ফাঁস চেষ্টা চালানো হবে।পানিহাটির ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের বিবেকানন্দ পার্কে রিয়া রায়ের ফ্ল্যাট রয়েছে। তিনি অদিতি পাত্রকে তা ভাড়া দিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে অপরিচিতের ভিড় লেগেই থাকে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বহিরাগতদের দেখে আবাসিকরা ঘোলা থানায় খবর দেন। পুলিস এসে ফ্ল্যাট থেকে দুই বাংলাদেশি আবু তাহের মোল্লা ও আসমা খানোমকে গ্রেপ্তার করেছিল। এরপর ফ্ল্যাট ভাড়ায় নেওয়া অদিতি পাত্রকে জেরা করতেই ঘটনা নাটকীয় মোড় নেয়। পুলিস জানতে পারে, অদিতির আসল নাম প্রিয়া খাতুন। বাড়ি বাংলাদেশের নড়াইল। সে ২০১৯ সালে এই দেশে এসেছিল। মহিলা পুলিসকে জানিয়েছে, মেদিনীপুরের অনুপ পাত্রকে বিয়ে করেছিল। আদৌ এই তথ্য সত্য কি না, পুলিস খতিয়ে দেখছে। এরপর দালাল মারফত কাঁথির ঠিকানা দিয়ে অদিতি পাত্র নামের নতুন পরিচয়পত্র তৈরি করে। পূর্ব মেদিনীপুর, বাগুইআটি সহ বিভিন্ন জায়গায় স্থান পরিবর্তন করে থাকছিল। গত মার্চ মাসে সে ভুয়ো পরিচয়পত্র দেখিয়ে বিবেকানন্দ পার্কের আবাসনে থাকতে শুরু করে।  মাঝেমধ্যে ডেরা বদল করলেও বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশকারীদের এনে ঘোলার ভাড়া বাড়িতে রাখত। তদন্তকারীরা জানার চেষ্টা করছেন, তাহলে প্রিয়া খাতুন কি অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের অন্যতম লিঙ্কম্যান? রাজ্যে জাল নথি তৈরিতে কারা যুক্ত ছিল? এমন নানা তথ্য ধৃতকে জেরা করে পুলিস জানার চেষ্টা শুরু করছে। বারাকপুর কমিশনারেটের ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দ্রবদন ঝাঁ বলেন, ঘোলার আবাসন থেকে মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের জেরা করে চক্রের পর্দাফাঁস করার চেষ্টা চলছে।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ