Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

তিন বছর ধরে কাকদ্বীপে থাকছিলেন বাংলাদেশের মৎস্যজীবী, জেরায় তথ্য

জীবিকার জন্য ভারতে মৎস্যজীবীর কাজ করতেন। অথচ নাগরিক বাংলাদেশের। সে দেশের সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে ভোটও দিয়েছেন তিনি।

তিন বছর ধরে কাকদ্বীপে থাকছিলেন বাংলাদেশের মৎস্যজীবী, জেরায় তথ্য
  • ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: জীবিকার জন্য ভারতে মৎস্যজীবীর কাজ করতেন। অথচ নাগরিক বাংলাদেশের। সে দেশের সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে ভোটও দিয়েছেন তিনি। সোমবার উপকূলরক্ষী বাহিনীর হাতে আটক বাংলাদেশি ট্রলারে থাকা রবীন্দ্রনাথ দাস নামে এক মৎস্যজীবীর ব্যাপারে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানতে পেরেছে পুলিশ। তাঁর কাছে বাংলাদেশের মেয়াদ উত্তীর্ণ পাসপোর্ট ছাড়াও ভারতীয় আধার কার্ড পাওয়া গিয়েছে। তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে ফ্রেজারগঞ্জ থানা। 

Advertisement

তিনবছর আগে রবীন্দ্রনাথ কাকদ্বীপের হারউড পয়েন্ট কোস্টাল থানার বসন্তপুর এলাকায় এসেছিলেন। সেখানে একটি ঘর ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। যদিও তাঁর পরিবার বাংলাদেশে আছে। কেউ যাতে তাঁকে সন্দেহ না করে, তার জন্য ঘনঘন বাসা পরিবর্তন করতেন। কোথাও তিন মাস কোথাও ছ’মাস বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতেন। রবীন্দ্রনাথ যে বাংলাদেশি, কেউ টের পায়নি। পুলিশ তাঁর কাছ থেকে শুধুমাত্র এদেশের আধার কার্ড উদ্ধার করেছে। ধৃতের ভাড়া বাড়িতে আর কোনো নথি রয়েছে কি না, সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সূত্রের খবর, মাস ছয়েক আগে বাংলাদেশ চলে গিয়েছিলেন ওই মৎস্যজীবী। কাকদ্বীপ এলাকায় তাঁর এক আত্মীয় মিত্রা দাসও এই তথ্য স্বীকার করেছেন। এদিকে, জানা গিয়েছে এখানে আসার পর রবীন্দ্রনাথ স্থানীয় মৎস্যজীবীদের সঙ্গে সমুদ্রে গিয়ে মাছ ধরেছেন। তাঁদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে জাল সারাইয়ের কাজও করেছেন। তবে কেন ওপার বাংলা ছেড়ে এখানে থাকতে শুরু করেছিলেন তিনি সেটাই এখন সবচেয়ে বড়ো প্রশ্ন। তদন্তকারীরা তাঁর ব্যাপারে আরও অনেক তথ্য সংগ্রহ করতে চাইছে। বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে কীভাবে এখানে আধার কার্ড বানালেন সেটা নিয়েও বিস্তারিতভাবে খোঁজখবর শুরু করেছে পুলিশ। বাংলাদেশে ভোট দিয়ে কাকদ্বীপ ফিরে আগের মতো জীবন কাটানোর লক্ষ্য ছিল ওই মৎস্যজীবীর। তাই সেখান থেকে একটি ট্রলারে করে এদেশে ঢোকার মুখে উপকূল রক্ষী বাহিনী ধরে ফেলে। তাঁর পরিবার বাংলাদেশে থাকে, ধৃত মৎসজীবী নিজে সেটা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, মাঝেমধ্যে দেখা করার জন্য সেখানে যেতাম। এবারও গিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি কীভাবে ভারতের আধার কার্ড তৈরি করলেন, তা নিয়ে কোনো উত্তর দিতে চাননি। সুন্দরবন  পুলিশ জেলার এক আধিকারিক বলেন, রবীন্দ্রনাথের ব্যাপারে বিস্তারিত খোঁজখবর চলছে। কিছুদিন গেলে আরও কিছু তথ্য পাওয়া যাবে বলেই আমাদের আশা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ