Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাংলাদেশি বাবার নাম বধূর আধারে, এসআইআর চালু হতেই শোরগোল নন্দকুমারে

বাবা থাকেন বাংলাদেশে। ১৯৯৮সালে ১৫বছর বয়সে কাজল হালদার কাঁটাতার পেরিয়ে চলে এসেছিল এপার বাংলায়।

বাংলাদেশি বাবার নাম বধূর আধারে, এসআইআর চালু হতেই শোরগোল নন্দকুমারে
  • ৬ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: বাবা থাকেন বাংলাদেশে। ১৯৯৮সালে ১৫বছর বয়সে কাজল হালদার কাঁটাতার পেরিয়ে চলে এসেছিল এপার বাংলায়। প্রথমে কলকাতায় বসবাস। তারপর ২০০০সালে কর্মসূত্রে কলকাতায় থাকা নন্দকুমার ব্লকের বহিচবেড়্যার কার্তিক করকে বিয়ে করে স্বামীর ঠিকানায় চলে আসেন। কাজল ভোটার ও আধার কার্ডে নামও তুলেছেন। সেই আধার কার্ডে বাংলাদেশে থাকা বাবা অমল হালদারের নাম জ্বলজ্বল করছে। ২০০২সালে শেষবার এসআইআরের সময় কাজলের নাম ভোটার তালিকায় ছিল না। কার্তিকের নামও ছিল না। তাই এসআইআর নিয়ে চিন্তিত কাজল। দালালদের হাত ধরে এপারে চলে আসার পর ২৭বছর কেটে গিয়েছে। এসআইআরের পর তাঁর নিয়তি কী হবে তা নিয়ে কার্তিক ও কাজল সহ পরিবারের উদ্বেগ বেড়েছে।

Advertisement

বুধবার নন্দকুমার বিধানসভার ৭৭নম্বর বুথের বিএলও দিলীপনারায়ণ রায় ইনিউমারেশন ফর্ম নিয়ে কার্তিক ও কাজলের বাড়িতে যান। পরিবারের পক্ষ থেকে বিএলওকে বলা হয়, ২০০৩সালে কোনও নথিপত্র ছাড়াই এদেশের ভোটার তালিকায় নাম তুলেছেন বাংলাদেশের বরিশাল থেকে আসা ওই যুবতী। আধার কার্ডে বাংলাদেশি বাবার নাম রাখার সময়ও কোনও সমস্যা তৈরি হয়নি। তখন থেকেই ওই পরিচয়পত্র রয়েছে। কখনও সংশোধন করা হয়নি। এদিন বহিচবেড়্যা পূর্বপাড়ায় ওই বাড়িতে বিএলও পৌঁছতেই সঙ্গী হন সংবাদ মাধ্যমের কর্মীরাও। তাঁদের দেখে চটে লাল কাজলের স্বামী, দেওর সহ অন্যরা। বরিশাল থেকে আসার পর কাজল ২৭বছর এদেশে আছেন। ২০০৩সালের ভোটার তালিকায় নাম উঠেছিল বলে পরিবারের দাবি। এখন সংবাদ মাধ্যম বিষয়টি তুলে ধরলে তার পরিণাম খারাপ হতে পারে বলে পরিবারের আশঙ্কা।
কাজল এদিন জানান, ১৯৯৮সালে কয়েকজনের সহযোগিতায় তিনি ওপার বাংলা থেকে এপারে চলে আসেন। তারপর বেশ কিছুদিন কলকাতায় ঠাঁই হয়। কর্মসূত্রে কার্তিক বেশ কয়েক বছর কলকাতায় কাটিয়েছেন। এভাবেই কলকাতায় দু’জনের পরিচয় হয়। তারপর তাঁরা বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন। ২০০০সালে তাঁদের বিয়ে হয়। তারপর থেকে নন্দকুমারের ওই ঠিকানায় বসবাস করছেন। কার্তিকও অনেক দেরিতে ভোটার তালিকায় নাম তুলেছেন। তা‌ই ২০০২সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম নেই। এনিয়ে দম্পতি বেশ চিন্তিত। বাংলাদেশ থেকে এপার বাংলায় আসা কাজলকে নিয়ে পরিবার আরও বেশি চিন্তিত।
কাজলের স্বামী কার্তিক কর বলেন, আমার স্ত্রী অনেক আগে বাংলাদেশ থেকে এদেশে এসেছে। এখানকার ভোটার এবং আধার কার্ড রয়েছে। এসআইআর শুরু হতেই খানিকটা ভয় পেয়েছে। তবে, ইনিউমারেশন ফর্ম পূরণ করে আমরা জমা করব। সেখানে যা যা তথ্য চাওয়া হয়েছে সবই উল্লেখ করা থাকবে।
কুমোরচক নিউ প্রাইমারির সহ শিক্ষক তথা বিএলও দিলীপনারায়ণ বলেন, কোনও নথি ছাড়াই বাংলাদেশ থেকে আসার পর কাজল যেভাবে ভোটার তালিকায় নাম তুলেছেন বলে দাবি করছেন সেটা আশ্চর্য মনে হচ্ছে। বাংলাদেশে থাকা বাবার নাম এখনও এখানকার আধার কার্ডে রয়েছে। আমি ওই বুথের বিএলও হিসেবে ইনিউমারেশন ফর্ম পৌঁছে দিয়েছি।
বিজেপির নন্দকুমার-১ মণ্ডল কমিটির সভাপতি গোপালকৃষ্ণ বেরা বলেন, আধারকার্ডে বাংলাদেশে থাকা বাবার নাম ব্যবহার করছেন এপারে চলে আসা বধূ। এই ঘটনা খুবই আশ্চর্যজনক। আমরা বিষয়টি পুঙ্খনাপুঙ্খ তদন্তের জন্য ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারের(ইআরও) কাছে চিঠি দেব।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ