Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

বাংলাদেশের সংবাদপত্র অফিসে আগুন-ভাঙচুর, স্থগিত প্রকাশনা

আমি আর শ্বাস নিতে পারছি না। চারদিকে প্রচণ্ড ধোঁয়া। আটকে পড়েছি। তোমরা আমাকে মেরে ফেলছ।’

বাংলাদেশের সংবাদপত্র অফিসে আগুন-ভাঙচুর, স্থগিত প্রকাশনা
  • ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

ঢাকা: ‘আমি আর শ্বাস নিতে পারছি না। চারদিকে প্রচণ্ড ধোঁয়া। আটকে পড়েছি। তোমরা আমাকে মেরে ফেলছ।’ অন্য দিনের মতো বৃহস্পতিবারও অফিসে কাজ করছিলেন দ্য ডেইলি স্টারের সাংবাদিক জাইমা ইসলাম। হঠাত্ই ঢাকার কাওরানবাজারে ইংরেজি সংবাদপত্রটির কার্যালয়ের ঢুকে পড়ে একদল জনতা। মুখে ভারত-বিরোধী স্লোগান। এরপরই শুরু হয় ভাঙচুর। অবাধে লুট করা হয় ল্যাপটপ, ডেস্কটপ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় যন্ত্র। সব তছনছের পর সবশেষে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় ডেইলি স্টারের অফিসে। ভিতরে তখনও আটকে বহু সাংবাদিক সহ অন্য কর্মী। সেই সময়ই ভিতরের পরিস্থিতি নিয়ে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন জাইমা। শুধু ডেইলি স্টার নয়, একইভাবে হামলা চলে অপর সংবাদপত্র ‘প্রথম আলো’র অফিসেও। সেখানেও একই কায়দায় আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যমের উপর সরাসরি এমন আক্রমণের নজির শেষ কবে দেখা গিয়েছে, তা মনে করতে পারছেন না কেউই। বহুক্ষণ পর ভোরবেলা দমকল মইয়ে সাংবাদিকদের বাইরে বের করে নিয়ে আসে।

Advertisement


পরিস্থিতি এমনই যে, শুক্রবার ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো সংবাদপত্র ছাপতেই পারেনি। আটকে পড়া সাংবাদিকদের উদ্ধার করতে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন অপর ইংরেজি দৈনিক নিউ এজের সম্পাদক নুরুল কবীর। উত্তেজিত জনতা তাঁকেও শারীরিকভাবে হেনস্তা করে।


শুক্রবার কাওরানবাজারে গিয়ে দেখা গিয়েছে, কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে দুটি অফিসই। এদিন সকালেও প্রথম আলোর দপ্তর থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছিল। দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশিরভাগ কম্পিউটার, অন্যান্য যন্ত্র ও বহু গুরুত্বপূর্ণ নথি পুড়ে গিয়েছে। ফলে আবার কবে সংবাদপত্র প্রকাশ হবে, তা নিয়ে সন্দিহান কর্তৃপক্ষ। এদিন ডেইলি স্টারের তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের স্বাধীন সাংবাদিকতার একটি কালো দিন। তাদের ৩৫ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম সংবাদপত্র প্রকাশ বন্ধ রইল। ওই বিবৃতিতে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকারও সমালোচনা করা হয়েছে। হামলা সত্ত্বেও পুলিশ-প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ। কয়েকজন ব্যক্তি সাধারণ মানুষকে ফুঁসলিয়ে সংবাদপত্রের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে বলেও ওই বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে। প্রথম আলোও এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ২৭ বছরের মধ্যে এই প্রথম তারা সাধারণ দিনে সংবাদপত্র প্রকাশ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। দ্য ডেইলি স্টারের  কনসাল্টিং এডিটর কামাল আহমেদ জানিয়েছেন, কবে সব স্বাভাবিক হবে, তা জানেন না। এদিন অবশ্য তিন সংবাদপত্রের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনুস। তিনি ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়ে বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ