ঢাকা, ১৯ ডিসেম্বর: ফের অশান্ত বাংলাদেশ। ফিরল গত বছরের জুলাই-আগস্টের রক্তাক্ত স্মৃতি। গতকাল রাতে তথাকথিত ছাত্র-জনতার আন্দোলনের অন্যতম মুখ তথা ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই দেশজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। রাজপথের দখল চলে যায় ‘মব’ বা উন্মত্ত জনতার হাতে। শুরু হয় হামলা, ভাঙচুর ও আগুন লাগানোর মতো ঘটনা। টার্গেট করা হয় সংবাদমাধ্যম, বঙ্গবন্ধু মুজিব ও আওয়ামি লিগ, মুক্ত চিন্তার সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান এবং ভারতীয় দূতাবাসকে। পুলিশ বা সেনাবাহিনীকে কোথাও দেখা যায়নি বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার জন্য বিএনপি সহ বিভিন্ন দল ইতিমধ্যে মহম্মদ ইউনুস এবং তাঁর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেছে।
বৃহস্পতিবার রাতে হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অবরোধ, হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের খবর আসতে থাকে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে উন্মত্ত জনতার তাণ্ডব। রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িতে ফের ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। রাজশাহীতে আওয়ামি লিগের অফিসে হামলা করে সেটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে মারমুখী লোকজন। ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট ভবনে হামলা চালায় কাপড়ে মুখ ঢেকে আসা একদল বিক্ষোভকারী। ধানমন্ডির শংকরে অবস্থিত সাততলা এই ভবনে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়েছে। ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে আগুন। উত্তেজিত জনতার রোষ থেকে রেহাই পেলেন না সাংবাদিকেরাও। গত রাতে দু’টি সংবাদমাধ্যমের দফতরে ভাঙচুরের পরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। বেশ কয়েক ঘণ্টা পরে আটতে পড়া একাধিক সাংবাদিককে উদ্ধার করা হয়। এখানেই শেষ নয়। চট্টগ্রামে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার ড. রাজীব রঞ্জনের বাসভবনেও হামলা করে একদল বিক্ষোভকারী। এছাড়া বহু স্থানে গতকাল রাত থেকে রাস্তা অবরোধ চলছে। শুক্রবার সকালেও বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল করে মানুষ শাহবাগে আসছেন।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন জাতীয় সংসদের নির্বাচন ও গণভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পরদিন, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন তীব্র ভারত বিরোধী হাদি। সেভেন সিস্টার্সকে আলাদা করার হুমকি শোনা গিয়েছিল তাঁর সমস্ত উস্কানিমূলক ভাষণেই। চিকিৎসার জন্য তাঁকে সিঙ্গাপুরে পাঠিয়েছিল মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টায় তাঁর মৃত্যুর খবর আসে। তার পরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়।