নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও সংবাদদাতা, বসিরহাট: কলকাতার নিউ মার্কেটের পিছনেই মারকুইস স্ট্রিট। স্থানীয়রা বলে থাকেন বাংলাদেশ পট্টি। বুধবার সন্ধ্যায় সেই মারকুইস স্ট্রিটের ফুটপাতে বসে মোবাইল ফোনে তারেক রহমানের ভাষণ শুনছিলেন এক ব্যক্তি। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে ভোট। বাংলাদেশ থেকে এসেছেন? উত্তরে ‘জি’ বলেই উঠে গেলেন ওই ব্যক্তি। মারকুইস স্ট্রিটের হোটেল কর্মীদের প্রশ্ন, ভোটের পর কি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে? ট্যুরিস্ট ভিসা আবার দেবে? এদিকে ভোট পর্বে নজরদারি বাড়ল সীমান্ত ঘেঁষা গ্রামীণ এলাকা গুলিতে।
বুধবার সীমান্ত সংলগ্ন গ্রাম স্বরূপনগরের বসিরহাট ঘোজাডাঙা, হিঙ্গলগঞ্জ হাসনাবাদ, কাটাখালি একাধিক রাস্তায় শুরু হল পুলিশের তল্লাশি। পুলিশ সূত্রে খবর, বাংলাদেশ সীমান্তের গা ঘেঁষে থাকা প্রতিটি জায়গায় চালানো হচ্ছে তল্লাশি। সীমান্ত লাগোয়া গ্রামগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আঁটসাঁট করতেই এই তৎপরতা। স্বরূপনগর ও বসিরহাট ঘোজাডাঙা সীমান্তে একাধিক ছোটোবড়ো হোটেলেও চালানো হয় তল্লাশি। এদিন স্বরূপনগর সীমান্তের প্রবেশদ্বার বলে পরিচিত তেঁতুলিয়া সেতুর উপর দিয়ে যাওয়া চারচাকা গাড়ি ও বাইক, পণ্যবাহী যান থামিয়ে তল্লাশি চালায় পুলিশ। দেখতে চাওয়া হয় তাঁদের পরিচয় পত্র। সীমান্তের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় চলছে পুলিশের নাকা চেকিং। বসিরহাটের পুলিশ সুপার হোসেন মেহেদি রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের নির্বাচন সেই কথা মাথায় রেখেই এই পুলিশের তল্লাশি চলছে। সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তার জন্য সব সময় নজর রেখেছে প্রশাসনের লোকজন। এই বিষয় ঘোজাডাঙা সীমান্তের বাসিন্দা কোমল সরকার বলেন, যেভাবে বাংলাদেশে অশান্তি চলছে তাতে পুলিশ ও বিএসএফের এই তৎপরতা খুবই ভালো।
এখন বেশিরভাগ বাংলাদেশি নাগরিক মেডিকেল ভিসায় কলকাতা আসছেন। কলকাতার মারকুইস স্ট্রিটের হোটেলগুলিতে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি রয়েছেন বলেই খবর। এক হোটেল কর্মী বলছিলেন, একজন গর্ভবতী মহিলা তো মালপত্র রেখে বাংলাদেশে গেলেন ভোট দেওয়ার জন্য। যাঁদের ডাক্তার দেখানোর ব্যাপার রয়েছে, তাঁরা এখানে থেকে গিয়েছেন। বাংলাদেশের পরিবেশ অশান্ত হওয়ার সঙ্গেই কলকাতায় পর্যটকদের আগমন বন্ধ হয়ে যায়। যার ফলে মারকুইস স্ট্রিটের হোটেল ব্যবসায়ীদের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছিল। এক হোটেল কর্মীর কথায়, বাংলাদেশে ভোটের পর কি পরিস্থিতি ভালো হবে? আমরা তো সেই আলোচনাই করছি এখন।