নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অনুপ্রবেশের অভিযোগে বীরভূম জেলার বাসিন্দা যে ছয় ‘বঙ্গভাষী’কে কাঁটাতারের বেড়া পার করিয়েছিল বিএসএফ, তাঁদের অবিলম্বে দেশে ফেরত নেওয়ার জন্য ঢাকার ভারতীয় হাই কমিশনকে নির্দেশ দিল বাংলাদেশের আদালত। বাংলাদেশের চাঁপাই নবাবগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, চলতি মাসের মধ্যেই অন্তঃসত্ত্বা সোনালি বিবি সহ ওই ছ’জনকে ভারতে ফেরত পাঠাতে হবে। প্রসঙ্গত, অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে যাঁদের বিতাড়িত করা হয়েছিল, বাংলাদেশ পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে বিদেশি নাগরিক সংক্রান্ত ‘দ্য কন্ট্রোল অব এন্ট্রি অ্যাক্ট, ১৯৫২’এর ৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী মামলা দায়ের করেছিল। অর্থাৎ বীরভূমের বাসিন্দা ওই ছয় বঙ্গভাষী বেআইনিভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছেন, এঁরা কেউ বাংলাদেশি নন। চাঁপাই নবাবগঞ্জের আদালতেও পুলিশ এ সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছিল। গত ৫ অক্টোবর আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ফার্স্ট কোর্ট) তানজিম আলম তাবাসসুম বাংলাদেশের জেলেবন্দি গর্ভবতী সোনালি খাতুন সহ ছ’জনকে ভারতে পাঠানোর নির্দেশপত্রে তাঁদের আধার কার্ড এবং বীরভূমের ঠিকানাও উল্লেখ করেছেন। এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি ঋতব্রত মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ কেন্দ্র সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল—আগামী একমাসের মধ্যে ফিরিয়ে আনতে হবে দানেশ আলি ও তাঁর গর্ভবতী স্ত্রী সোনালি বিবি, সুইটি বিবি, কুরবান দেওয়ান এবং দুই নাবালক ভারতীয় নাগরিককে। অভিযোগ উঠেছিল, অসমের ধুবড়ি দিয়ে পুশব্যাক পর্বে একে সিরিজের রাইফেল উঁচিয়ে ওই ছয় ভারতীয়কে গুলি করার হুমকি দিয়েছিল বিএসএফ। গত আগস্ট মাসে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ তাঁদের ফিরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানালেও, তা প্রত্যাখান করা হয়। দিল্লির ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করতেন বীরভূমের পাইকর থানার দর্জিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা দানেশ আলি, তাঁর স্ত্রী সোনালি বিবি। আট বছরের সন্তান সাব্বিরকে নিয়ে তাঁরা সেখানেই ডেরা বেঁধেছিলেন। একইভাবে ওই ইটভাটায় কাজ করতেন মুরারই থানার ধিতলা গ্রামের বাসিন্দা সুইটি বিবি ও তাঁর বড় ছেলে কুরবান দেওয়ান। মা ও দাদার সঙ্গেই সেখানে থাকত নাবালক ইমান দেওয়ান। গত ২০ জুন এঁদের ছ’জনকে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে গ্রেপ্তার করে দিল্লি পুলিশ। যাবতীয় ভারতীয় পরিচয়পত্র, এমনকি জমির দলিলপত্র দেখানো সত্ত্বেও গত ২৬ জুন অসমের ধূবড়ি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশের কুড়িগ্রামে তাঁদের ‘পুশব্যাক’ করিয়েছিল বিএসএফ। সেখান থেকে ঢাকা হয়ে তাঁরা চলে যায় চাঁপাই নবাবগঞ্জ শহরে। গত ২০ আগস্ট সেখানকার আলিনগরের ভূতপুকুর এলাকার একটি ভাড়াবাড়ি থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে নবাবগঞ্জ মডেল থানার পুলিশ। আদালতের নির্দেশে তাঁদের ঠাঁই হয় কারাগারে। মডেল থানার ওসি মতিউর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তিনি বলেন, ওই ছয় ভারতীয়কে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।



