Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অর্থের অভাবে অসম্পূর্ণ রয়েছে ‘বাংলার বাড়ি’? ঋণ পেতে সাহায্য করবে রাজ্য

আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে আরও ১৬ লক্ষ উপভোক্তাকে ‘বাংলার বাড়ি’র প্রথম কিস্তির টাকা দিতে চলেছে রাজ্য। তার আগে ফের একবার উপভোক্তাদের যোগ্যতা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার।

অর্থের অভাবে অসম্পূর্ণ রয়েছে ‘বাংলার বাড়ি’? ঋণ পেতে সাহায্য করবে রাজ্য
  • ২৯ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

প্রীতেশ বসু, কলকাতা: আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে আরও ১৬ লক্ষ উপভোক্তাকে ‘বাংলার বাড়ি’র প্রথম কিস্তির টাকা দিতে চলেছে রাজ্য। তার আগে ফের একবার উপভোক্তাদের যোগ্যতা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। শুক্রবার জেলাশাসকদের এই মর্মে নির্দেশ পাঠানো হয় রাজ্য পঞ্চায়েত দপ্তরের তরফে। সেখানে সাফ বলে দেওয়া হয়েছে, আগের যাচাই পর্বে অযোগ্য উপভোক্তা চিহ্নিতকরণের ক্ষেত্রে যেসব গ্রাম পঞ্চায়েতের হার রাজ্য ও সংশ্লিষ্ট জেলার গড় হারের থেকে কম হচ্ছে (মিসম্যাচ), সেসব জায়গায় নতুন করে যাচাইয়ে জোর দিতে হবে। তবে এর আগের ‘সুপার চেকিং’-এ আধিকারিকরা যে এলাকায় যাচাইয়ের কাজ করেছিলেন, সেই এলাকায় তাঁদের নিযুক্ত না করার দাওয়াই দেওয়া হয়েছে। ওই নির্দেশিকায় ‘বাংলার বাড়ি’র উপভোক্তাদের ব্যাংক ঋণ পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও সহায়তা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের দেওয়া ‘হাউজ বিল্ডিং অ্যাসিস্ট্যান্স’ পাওয়া সত্ত্বেও যাঁরা বাড়ি তৈরির কাজ সম্পূর্ণ করতে পারেননি, তাঁদের জন্যই মূলত এই নির্দেশ বলে মত প্রশাসনিক মহলের।   

Advertisement

ইতিমধ্যে ১২ লক্ষ উপভোক্তাকে ‘বাংলার বাড়ি’র টাকা দিয়েছে রাজ্য। দুটি কিস্তিতে ৬০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চার হাজার এমন উপভোক্তা আছেন, যাঁরা টাকা পেয়েও কাজ শুরু করতে পারেননি। আবার ২০ হাজার মতো উপভোক্তা ‘লিনটেল’ পর্যন্ত কাজ শেষ করতে না পারায় তাঁদের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়া সম্ভব হয়নি। এঁদের একটা বড় অংশের আবার ইচ্ছা থাকলেও আর্থিক অনটনের কারণে বাড়ি তৈরির কাজ সম্পূর্ণ হয়নি। এসব ক্ষেত্রে বা ভবিষ্যতে কোনও উপভোক্তা আর্থিক অভাবে বাড়ি তৈরির কাজ শেষ না করতে পারলে তাঁদের রাজ্যের ‘আনন্দধারা’ প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যাংক ঋণ পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে বলেছে রাজ্য। তাছাড়া, ‘কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি’ বা সিএসআরের মাধ্যমেও এই উপভোক্তাদের সহযোগিতা করা যেতে পারে বলে জানানো হয়েছে। প্রশাসনিক মহলের বক্তব্য, কেন্দ্র যেহেতু বাড়ি তৈরির জন্য ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা করে দিত, রাজ্যও সহায়তা হিসেবে সেটাই দিচ্ছে একজন উপভোক্তাকে। তবে কেন্দ্রের নির্ধারিত অর্থে একটি বাড়ি সম্পূর্ণ তৈরি করা কোনওভাবেই সম্ভব নয়। তাই সামান্য হলেও নিজেদের টাকা খরচ করতে হয় উপভোক্তাদের। যাঁদের সেই সামর্থ্য  নেই, তাঁদের জন্য মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাংক ঋণ পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বলেন, ‘কেন্দ্রের হাজার বঞ্চনা সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী যতটা সম্ভব করছেন। আমরা চাই, সবার বাড়ি সম্পূর্ণ হোক।’ তবে এমন কিছু উপভোক্তা আছেন, যাঁরা প্রথম কিস্তির টাকা নিলেও বাড়ি তৈরি করতে অনিচ্ছুক বা অন্যত্র চলে গিয়েছেন। তাঁদের ক্ষেত্রে টাকা ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে বলা হয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ