সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: হিমুলের জমিতে মাথা তুলছে বাংলা ডেয়ারি। একবছরের মধ্যেই তাতে দুধ ও দই উৎপাদনে আসবে জোয়ার। বিনিয়োগ হবে ৪০ কোটি টাকা। প্রায় ২০ দিন আগে উত্তরবঙ্গের বাণিজ্য সম্মেলন থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এমন ঘোষণার পর সংশ্লিষ্ট শিল্পে পরিকাঠানো উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, বর্তমানে উৎপাদিত দুধ ও দইয়ের পরিমাণ বছর খানেকের মধ্যে তিনগুণ বেশি করার টার্গেট নেওয়া হয়েছে। এজন্য বসানো হচ্ছে অত্যাধুনিক মেশিনপত্র।
শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি অরুণ ঘোষ বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর সংশ্লিষ্ট ডেয়ারি শিল্পে পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজে গতি এসেছে। এ বিষয়ে প্রাণিসম্পদ বিকাশ দপ্তর এবং ডেয়ারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। এবার এই শিল্পে জোয়ার আসবে বলেই আশা করছি।
তৃণমূল কংগ্রেসের দার্জিলিং জেলার চেয়ারম্যান (সমতল) তথা নর্থবেঙ্গল মার্চেন্ট চেম্বার অব কর্মাস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির চেয়ারম্যান সঞ্জয় টিবরেওয়াল বলেন, বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছি। ওই ডেয়ারির নির্মাণ কাজ চলছে।
একদা মাটিগাড়া ব্লকের খাপরাইল মোড়ের কাছে গড়ে উঠেছিল হিমালয়ান কো-অপারেটিভ মিল্ক প্রোডিউসার্স ইউনিয়ন লিমিটেড বা হিমুল। সেখানেই হিমুলের অফিস ও কারখানা ছিল। বহুদিন আগেই হিমুল বিলুপ্ত হয়েছে। প্রায় আট বছর আগে সেই জমি অধিগ্রহণ করে মাদার ডেয়ারি। এরপর সেখানেই বাংলা ডেয়ারি গড়ে ওঠে। গত ১৯ মে শিলিগুড়িতে বাণিজ্য সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট শিল্পে প্রায় ৪০ কোটি টাকা বিনিয়োগের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রাণিসম্পদ বিকাশ দপ্তর সূত্রে খবর, বহুদিন আগেই সংশ্লিষ্ট ডেয়ারির পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রস্তাব রাজ্য সরকারের কাছে পেশ করা হয়েছিল। সেই মতো এবার ওই অর্থ বিনিয়োগ করছে রাজ্য। এতে দুধ ও মিষ্টি দই প্রস্তুতের জন্য অত্যাধুনিক মেশিন বসানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দপ্তরের এক কর্তা জানান, ইতিমধ্যে ইউনিটটি ঢেলে সাজানোর কাজ শুরু হয়েছে। আগামী একবছরের মধ্যে নির্মীয়মাণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে বলেই আশা করছি।
মাটিগাড়ার খাপরাইল মোড় থেকে উত্তর দিকে পিচ রাস্তা ধরে কিছুটা এগলেই বাংলা ডেয়ারি। রবিবার সেখানে গিয়ে দেখা যায় বিশাল এলাকার কিছু অংশ পার্থেনিয়াম ও আগাছায় ভরে আছে। পুরনো কিছু ভবনের দেওয়ালে গজিয়ে উঠেছে আগাছা। কিছু গাড়ি জঙ্গলে ঢেকেছে। পাশেই পুরনো কারখানা ও অফিস বিল্ডিং ভাঙা হচ্ছে।
বাংলা ডেয়ারি সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে এখানে দৈনিক দুধ ও মিষ্টি দই উৎপাদের পরিমাণ যথাক্রমে দু’হাজার লিটার এবং এক হাজার কেজি। ৫০০ এমএল স্বাস্থ্য সাথী ডাবল টোনড মিল্ক ও প্রাণ সুধা কাউ মিল্কের দাম যথাক্রমে ২১ টাকা ও ২৪ টাকা। এক কেজি দইয়ের দাম ৭১ টাকা। এরবাইরে ২০০ ও ৪০০ গ্রাম দইয়ের প্যাকেটের দাম, যথাক্রমে ১৭ টাকা ও ৩৩ টাকা।
বর্তমানে কিছু দোকানের মাধ্যমে সেগুলি বিক্রি করে ভালো সাড়া মিলেছে। একবছরের মধ্যে দৈনিক দুধের উৎপাদন বাড়িয়ে ৩০ হাজার লিটার এবং দইয়ের উৎপান বাড়িয়ে ২০ হাজার কেজি করার টার্গেট নেওয়া হয়েছে।
আধিকারিকরা বলেন, নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর দুধ সংগ্রহ, গো পালকদের নিয়ে মিল্ক ইউনিয়ন গঠন, আউটলেট খোলা সহ মার্কেটিংয়ে আরও জোর দেওয়া হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হওয়ার পর প্রচুর লোকের কর্মসংস্থান হবে বলেই আশা করছি।