সংবাদদাতা, বনগাঁ: চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করতে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল দল। আজ শনিবার শেষ হচ্ছে সেই সময়সীমা। তার আগে শুক্রবার অসুস্থতার কারণে সাময়িক দায়িত্ব হস্তান্তর করলেন বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল শেঠ। ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সুরজিৎ দাসকে সাময়িক দায়িত্ব হস্তান্তর করেছেন তিনি। শুক্রবার এক সাংবাদিক সম্মেলন করে একথা জানান গোপাল শেঠ। তিনি বলেন, ‘দল শনিবারের মধ্যে আমাকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছিল। শুক্রবার আমার পদত্যাগ করার কথা ছিল। কিন্তু সকালে আমি হাইকোর্টের একটি নোটিশ পা়ই। ভাইস চেয়ারম্যান অপসারণের বিষয়ে রিট পিটিশন করা হয়েছে। এমতাবস্থায় পদত্যাগ করা যায় না। সেকারণে আমি দায়িত্ব হস্তান্তর করেছি।’ সুরজিৎ দাস বলেন, ‘নাগরিক পরিষেবা বজায় রাখার চেষ্টা করব।’
অচলাবস্থা চলছে বনগাঁ পুরসভায়। গত ৬ তারিখ তাঁকে পদত্যাগ করতে দলের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। দলের নির্দেশ অমান্য করায় দল পদত্যাগের সময়সীমা বেঁধে দেয়। এরই মধ্যে ভাইস চেয়ারম্যান পদ থেকে জ্যোৎস্না আঢ্যকে সরিয়ে দেন গোপাল শেঠ। প্রতিবাদে আদালতের দ্বারস্থ হন জ্যোৎস্না। যার পরিপ্রেক্ষিতে চেয়ারম্যানকে নোটিশ পাঠায় আদালত। যেটাকে ঢাল করেছেন তিনি। যদিও জ্যোৎস্না আঢ্য দাবি করেছেন, অপসারণের জন্য আদালতে যাননি তিনি। কারণ জানতে ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। এবিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস। তিনি বলেন, ‘১৫ তারিখ সময়সীমা শেষ না হওয়া পর্যন্ত মন্তব্য করব না।’ অন্যদিকে গোপাল শেঠ দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হয়েছে। আমি দুর্নীতির তদন্ত চেয়েছিলাম। সেকারণে এই ঘটনা। তৃণমূল সভাপতি সুব্রত বক্সিকেও চিঠি দিয়েছেন বলে জানান তিনি। পুরসভার বিজেপি কাউন্সিলার দেবদাস মণ্ডলের দাবি, এটা তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল। ক্ষমতা দখলের লড়াই। এই লড়াইয়ে বনগাঁবাসী নাগরিক পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হলে বিজেপি পথে নামবে।