সংবাদদাতা, বনগাঁ: যানজটে নাজেহাল বনগাঁবাসী। রাত হলেই অবরুদ্ধ হয়ে পড়ছে শহরের রাস্তাগুলি। মাত্র পাঁচ মিনিটের পথ পেরতে ৩০ মিনিট পার হয়ে যাচ্ছে। যানজটে আটকে যাচ্ছে অ্যাম্বুলেন্সও। ঘটছে দুর্ঘটনা। এমনকী কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে জখম ব্যক্তিদের নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছতেও দেরি হচ্ছে। সম্প্রতি বনগাঁয় ছোট-বড় বেশ কয়েকটি পথ দুর্ঘটনা ঘটেছে। দু’দিন আগেই গভীর রাতে পথ দুর্ঘটনায় এক বাইকচালকের মৃত্যু হয়েছে। জখম হয়েছেন অন্তঃসত্ত্বা মহিলা। বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, এই দুর্ঘটনার পিছনে রয়েছে রাস্তার যানজট। রাত হলেই পণ্য বোঝাই ট্রাকের সারি পড়ে যায় রাস্তা জুড়ে। হেঁটে রাস্তা দিয়ে চলাচলের উপায় থাকে না।
বনগাঁ শহরের গুরুত্বপুর্ণ রাস্তা যশোর রোড বা ১১২ নম্বর জাতীয় সড়ক। এই রাস্তা দিয়ে রোজ শ’য়ে শ’য়ে পণ্যবাহী ট্রাক বাংলাদেশে যায়। একইভাবে বনগাঁ - চাকদহ রাজ্য সড়ক কিংবা বাগদা সড়ক দিয়েও প্রতিদিন প্রচুর ট্রাক বাংলাদেশে চলাচল করে। সারাদিন অটো-টোটোর দাপটে এইসব রাস্তা কার্যত অবরুদ্ধ থাকে। রাতে রাস্তার দখল নেয় পণ্যবাহী ট্রাক। শহরে ঢোকার মুখে প্রতিটি রাস্তা বেশ কয়েক কিলোমিটার অবরুদ্ধ থাকে। এক গাড়িচালক ঝুলন মালাকার বলেন, মাঝেমধ্যে রাতে গাড়ি চালিয়ে বনগাঁয় ফিরতে হয়। রাস্তায় ট্রাকের সারিতে আটকে থাকতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। পনেরো মিনিটের পথ পেরতে একঘণ্টা লেগে যায়।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সারাদিন শহরের রাস্তায় পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। কিন্তু রাত ৯টার পর থেকে বাংলাদেশগামী ট্রাক ছাড়া শুরু হয়। বুকিং অনুযায়ী ট্রাক ছাড়া হয়। তবে রাস্তায় অনেক সময় যানজট হয়। জানা গিয়েছে, বনগাঁ বিএসএফ ক্যাম্প মোড় এলাকায় রাস্তার উপর গাড়ি দাড় করিয়ে পুলিস পেট্রাপোলমুখী গাড়ির বৈধ পাস আছে কি না, তা পরীক্ষা করে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই পাস পরীক্ষার জন্যই শহর জুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়।
এবিষয়ে পেট্রাপোল ক্লিয়ারিং এজেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী বলেন, রাস্তা আগের মতোই আছে। গাড়ি বেড়েছে কয়েকশো গুণ। স্বাভাবিকভাবে রাস্তায় যানজট হবেই। বনগাঁ শহরকে যানজট মুক্ত করতে গেলে আগে রাস্তা সম্প্রসারণ করতে হবে। পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল শেঠ বলেন, শহরের বাইরে গাড়ি চেকিং শুরু হলে যানজট অনেকটাই কমবে। প্রশাসনের সঙ্গে এবিষয়ে আলোচনা করব। নিজস্ব চিত্র