সুকান্ত বসু, কলকাতা: হাটখোলা দত্তবাড়ির সদস্যরা প্রতিমা বিসর্জনের পর গঙ্গা থেকে দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ‘বঙ্গ আমার জননী আমার...’ গাইতে গাইতে বাড়ি ফেরেন। এরপর দুর্গা মণ্ডপের সামনে তাঁরা সমবেত হয়ে ‘বন্দেমাতরম’ ধ্বনি দেন।
সুকান্ত বসু, কলকাতা: হাটখোলা দত্তবাড়ির সদস্যরা প্রতিমা বিসর্জনের পর গঙ্গা থেকে দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ‘বঙ্গ আমার জননী আমার...’ গাইতে গাইতে বাড়ি ফেরেন। এরপর দুর্গা মণ্ডপের সামনে তাঁরা সমবেত হয়ে ‘বন্দেমাতরম’ ধ্বনি দেন।
দত্তবাড়ি সূত্রে জানা গিয়েছে, সুভাষচন্দ্র বসুর মা প্রভাবতী দেবী এই পরিবারের সদস্যা। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে পরিবারের সদস্যরা রাখিবন্ধন উৎসবে অংশ নিয়েছিলেন। এই বাড়ির গল্প সুপ্রাচীন। যে ইতিহাস আজও মুখে মুখে ফেরে সকলের। উত্তর কলকাতার এই প্রাচীন বাড়ির দুর্গাপুজোয় একসময় দশমীতে ওড়ানো হত নীলকন্ঠ পাখি। কিন্তু আইনের কারণে এখন আসল নয়, মাটির একটি নীলকন্ঠ দেবীর সঙ্গে দেওয়া হয়। দত্ত পরিবারের দুর্গাপ্রতিমা কোনো যানবাহনে নয়, মানুষের কাঁধে চেপে গঙ্গায় বির্সজনে যান। উল্টোরথের দিন এই বাড়ির প্রতিমার কাঠামো পুজো হয়। এরপর কুমোরপাড়া থেকে শিল্পীরা এসে শুরু করেন প্রতিমা তৈরির কাজ। তবে এই বাড়িতে ভাদ্রমাসে প্রতিমার কোনো কাজ হয় না। নিমতলা ঘাট স্ট্রিটে দত্তবাড়িতে পুজোর আগে এক দুপুরে গিয়ে দেখা গিয়েছে, দুর্গা মণ্ডপে তৈরি হচ্ছে মাতৃপ্রতিমা।
এই পুরনো বাড়ির বিশাল বিশাল থাম। কারুকার্য করা দুর্গা দালান। নিস্তব্ধ দুপুরে ঘোলা পায়রার বকবকম আওয়াজে মুখরিত হয় দালান। তার মধ্যে সংবাদমাধ্যমের ভিড়। এই বাড়ির তরফে অভীক দত্ত জানান, পুজোয় মাকে কোনো অন্নভোগ দেওয়া হয় না। মায়ের কাছে নিবেদন করা হয় নানা ধরনের ফল ও মিষ্টি। এছাড়া দেবীকে প্রতিদিন দেওয়া হয় গাওয়া ঘিয়ের লুচি ও চিনির গুঁড়ো। তিনি জানান, পুজো উপলক্ষ্যে বসে ভিয়েন। সেখানে চারদিন নানাধরনের মিষ্টি তৈরি হয়। তালিকায় রয়েছে দরবেশ, নিমকি, গজা, লেডিকেনি, বালুসাই, মতিচূর, রাধাবল্লভী, খাস্তা কচুরি প্রভৃতি। তবে আগে সেই ব্যবস্থা ছিল এলাহি। দত্তবাড়ি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বাড়িতে পুজোতে বলি হিসাবে দেওয়া হয় ক্ষীরের পুতুল। বলির সময় বাড়ির লোক তা দেখেন না। এই বাড়ির দুর্গাদালান তৈরির সময় ভিতে নিবেদন করা হয়েছিল ভারতের বিভিন্ন তীর্থের মাটি। যা এককথায় উল্লেখযোগ্য ঘটনা বলে মনে করেন স্থানীয় মানুষজন। কলকাতায় আর পাঁচটা বনেদি বাড়িতে যেমন দশমীর দিন সিঁদুর খেলা হয় এ বাড়িতে তা হয় না। এখানে অষ্টমীর দিন দেবীকে নিবেদন করা সিঁদুর। বাড়ির মহিলারা একে অপরকে সিঁদুর পরিয়ে দেন।