নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: কোচবিহারের রাসমেলা মানেই হরেকরকম খাদ্যের সম্ভার। কিন্তু বাঙালি খাওয়া সেরে একটু পান-মৌরি খাবে না তা কি হয়? তাই মেলার মধ্যে রয়েছে বেশ কয়েকটি পানের দোকান। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য হল গোপালচন্দ্র সাহা ও সান্ত্বনা সাহার বেনারসি পানের দোকান। গত ২৫ বছর ধরে এই সাহা দম্পতি পানের দোকান চালান। ১৭ বছর ধরে রাসমেলায় আসছেন।
এবার এই বেনারসি পানের দোকানের বিশেষ আকর্ষণ কস্তুরি পান। কি এই কস্তুরি পান? তার দামই বা কত? জানা গিয়েছে, কস্তুরি পান আসলে এক ধরনের মিষ্টি পান। যাতে কস্তুরির সুগন্ধ দেওয়া হয়। দাম ৭০০ টাকা। এই দামের কারণে এই পান যে খুব বেশি বিক্রি হয় তেমনটা নয়। তবে ক্রেতারা চাইলে দেওয়া হয়। এছাড়াও মিলছে ৩০ থেকে শুরু করে ৩০০-৩৫০ টাকা দামের পানও।
জর্দা দেওয়া পানের পাশাপাশি, এগরোল পানও আছে। সেই পান এতটাই বড় যে দুই-তিনবারে ভেঙে খেতে হয়। এর দাম ৭০ টাকা। চকোলেটের স্বাদ যুক্ত পানের দাম ৫০ টাকা। যোধপুরী মিষ্টি পানও পাওয়া যাচ্ছে। যার দাম ১৭০ টাকা। রয়েছে ১২০ টাকা দামের চিলিমিলি পান। নানা ধরনের মশলা দিয়ে এই পান বানাচ্ছেন সাহা দম্পতি। যারমধ্যে কাজু, কিসমিসের গুঁড়ো রয়েছে। আছে মারচুনি পান। এটিও আসলে একটি মিষ্টি পান। দাম ১৩০ টাকা। ১২০ টাকা মূল্যের সিঙ্গাপুরী মিষ্টি পান, ৮০ টাকা দামের গোলাপ পাপড়ি পান। বেনারসি মিষ্টি পানের দাম ৩০ টাকা।
গোপালচন্দ্র সাহা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন থেকেই পানের ব্যবসা করি। বেনারসি পান, জর্দা, নানা ধরনের মশলা সংগ্রহ করতে হয়। তারপর মেলায় ঘুরে ঘুরে পান বিক্রি। রাসমেলায় ১৭ বছর ধরে আসছি। আমাদের কাছে ৩০ টাকা থেকে শুরু করে ৭০০ টাকা দামের কস্তুরি পানও রয়েছে। ৭০০ টাকা দিয়ে অনেকেই পান খান না। তবে ২০০-৩০০ টাকা দরের পান অনেকেই শখ করে খাচ্ছেন। রাসমেলায় এই বেনারসি পানের দোকান সম্পর্কে অনেকেই জানেন। তাই ক্রেতারা নিয়মিত ভিড় করছেন। আমরাও চাহিদা মতো পান বানিয়ে দিচ্ছি। রাসমেলায় স্টল দিয়ে বেনারসি পান বিক্রির একটা আলাদাই মজা রয়েছে। নিজস্ব চিত্র।