নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: সোমবার সন্ধ্যায় মাত্র পাঁচ মিনিটের ঝড়ে লন্ডভন্ড হয় ওন্দার বনমালীপুর গ্রাম। ঝড়ে ওই গ্রামে বেশকিছু গাছ ভেঙে পড়ে। একাধিক বাড়িঘরও ক্ষয়ক্ষতি হয়। মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় লোদনা গ্রাম পঞ্চায়েত ও ওন্দা পঞ্চায়েত সমিতির লোকজন গ্রামে গিয়ে ক্ষয়ক্ষতি খতিয়ে দেখেন। দ্রুত এব্যাপারে তালিকা তৈরি করে পঞ্চায়েতের মাধ্যমে ব্লকে পাঠানো হবে বলে জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।
বাঁকুড়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক (বিপর্যয় মোকাবিলা) নকুলচন্দ্র মাহাত বলেন, বর্তমানে এলাকাভিত্তিক ঝড়বৃষ্টি হচ্ছে। ওন্দায় ঝড়ের খবর জেলাস্তরে আসেনি। ক্ষয়ক্ষতি কম হলে ব্লক স্তরে বিডিওরা পরিস্থিতি সামাল দিয়ে দেন। ওন্দা ব্লক প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, পঞ্চায়েত থেকে ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট পাওয়ার পর তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা প্রেমাঞ্জন দাস বলেন, ওইদিন সন্ধ্যায় আমাদের গ্রামের উপর দিয়ে ঝড় বয়ে যায়। মাত্র কয়েক মিনিটের ঘূর্ণিঝড়ে গাছপালা ভেঙে পড়ে। আমাদের বাড়ির পাশেই শতাব্দী প্রাচীন একটি চাকলদা গাছ রয়েছে। ধর্মীয় স্থানে গাছটি থাকার কারণে সেটি কেউ কাটেনি। ওই গাছের দু’টি বড় ডাল ঝড়ে ভেঙে পড়ে। একটি আমাদের পাশের বাড়ির উপরে গিয়ে পড়ে। অন্যটি আমাদের বাড়ির ছাদ ও গোয়ালঘরের উপর ভেঙে পড়েছে। গোয়ালে ছ’টি গোরু ছিল। গোয়ালের অ্যাসবেসটসের চাল মোটা ডালের চাপে ভেঙেচুরে যায়। প্রতিবেশীদের সাহায্যে কোনওরকমে গোরুগুলিকে গোয়াল থেকে অক্ষত অবস্থায় বের করা সম্ভব হয়েছে। আমাদের এলাকার অন্যান্য বাড়িঘরেও ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য রোহিত দত্ত বলেন, আমার অঙ্গদপুর সংসদের আওতায় বনমালীপুর গ্রাম রয়েছে। এদিন সকালে ওন্দা পঞ্চায়েত সমিতির বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ হীরালাল মুখোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে আমি ওই গ্রামে যাই। ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট পঞ্চায়েতের মাধ্যমে বিডিও অফিসে পাঠানো হবে। দ্রুত ক্ষতিপূরণ মেটানোর জন্য কর্মাধ্যক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সোমবার বিকেলে বাঁকুড়া শহর ও সংলগ্ন এলাকার আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যে ঝোড়ো হওয়া বইতে শুরু করে। সেইসঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি শুরু হয়। বাঁকুড়া শহরে ঝড়বৃষ্টির দাপট তেমন ছিল না। তবে ওন্দা ব্লক এলাকায় ঝড়ের তীব্রতা বেশি ছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। আবহাওয়া দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, মে-জুন মাসে স্থানীয় স্তরেও ঝড়বৃষ্টি হয়। তীব্র গরমে কোনও এলাকার বাতাস উষ্ণ ও হালকা হলে, তা হঠাৎ উপরে উঠে যায়। প্রকৃতির নিয়মে ওই শূন্যস্থান পূরণ করতে আশপাশের ঠান্ডা বায়ু দ্রুত ওই জায়গায় ছুটে যায়। তারফলে অল্প সময়ে তীব্র ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি হয়। এতে বাড়িঘরের ক্ষয়ক্ষতি হয়। ঝড়ের দাপটে গাছপালাও ভেঙে পড়ে। -নিজস্ব চিত্র