নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শেষমেশ জোড়াফুল প্রতীক হাতছাড়া হল মমতা-ঋতব্রতর। উপনির্বাচনে দুই শিবির কী নামে এবং কোন প্রতীকে লড়বে, তা নিয়ে চলছিল নানা আলোচনা। তৃণমূলের পুরনো নাম ও জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহারে গতকালই অবশ্য নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল নির্বাচন কমিশন। এরপরই আজ, শুক্রবার অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ্যে এল দুই দলের নতুন নাম ও প্রতীক।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের নতুন নাম হল ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’। তাদের জন্য বরাদ্দ হল ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক। অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের নাম ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’। এই শিবিরের প্রার্থীরা উপ-নির্বাচনে ‘খাম’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
নন্দীগ্রামে কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের সঞ্চিতা প্রধান দে এবং ঋতব্রত শিবিরের এতেশামুল হক জোড়াফুল প্রতীকে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। একই ছবি দেখা যায় রেজিনগরেও। সেখানে কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের রবিউল আলম চৌধুরী এবং ঋতব্রত শিবিরের সফিউজ্জামান শেখ একই প্রতীক দাবি করেন। এর পরেই কমিশনের তরফে মনোনয়ন যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখার কথা জানিয়েছিল।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক সেরে গতকাল গভীর রাতে কলকাতায় ফেরেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, কমিশনের সিদ্ধান্তকে তাঁরা স্বাগত জানাচ্ছেন। তাঁর দাবি, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কাজকর্ম নিয়েও একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে। এতদিন দলটি কার্যত ‘প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি’র মতো পরিচালিত হত বলেও অভিযোগ করেন তিনি। দলের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত একতরফাভাবে নেওয়া হত এবং অন্য নেতা-কর্মীদের মতামতকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হত না বলেও দাবি তাঁর। ঋতব্রত জানান, এবার থেকে কোনও সিদ্ধান্ত একতরফাভাবে নেওয়া হবে না। দলের কার্যকরী কমিটির বৈঠকে সকলের সঙ্গে আলোচনা করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত করা হবে। আজ সব জল্পনার অবসান ঘটাল নির্বাচন কমিশন। মমতা ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল পেল নতুন নাম ও প্রতীক।