সত্যজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, বারুইপুর: জনশ্রুতি, বনবিবির পুজোর শেষে সন্ধ্যায় মন্দিরে বাঘ আসে। বিকেলের পর তাই কাউকে ঘেঁসতে দেওয়া হয় না জঙ্গলে। বহু মানুষ মানত করেন বনবিবির কাছে। ইচ্ছা পুরণ হলে নদীতে মোরগ স্নান করান। তারপর জঙ্গলে ছেড়ে দেন। মানত করা মোরগ বাঘের খাবার বলে বিশ্বাস মানুষের।
সুন্দরবনের নগেনাবাদ গ্রামের বিশ নম্বর বা বৈঠাভাঙি জঙ্গলে। সেখানে রয়েছে বনবিবির মন্দির। তিনি বাঘের দেবী। সুন্দরবনের মানুষ মনে করেন বনবিবি তাঁদের বাঘের হাত থেকে রক্ষা করেন। তাই ঘটা করে বৈশাখ মাসের শেষে পুজো করেন। বাঘের ডেরায় মন্দির। গা ছমছমে পরিবেশ। বেড়া, অ্যাসবেস্টসের ছাউনি দেওয়া। সেখানে বনবিবির সঙ্গে পুজো হয় বিশালাক্ষী, গঙ্গা ও মনসার। হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ পুজোর দায়িত্বে। মাতলা নদীতে নৌকা চেপে এসে জল- কাদাপথ হেঁটে জঙ্গলে ঢুকতে হয়। মঙ্গলবার পুজো উপলক্ষ্যে জঙ্গলে মেলা। দেখতে এসেছিলেন দূর দুরান্তের মানুষ। বনদপ্তর ও উপকূল থানার পুলিস কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে। চারদিন ধরে মেলা চলবে।
মন্দিরের পিছনেই ঘন জঙ্গল। বাঘের অবস্থান। জঙ্গল জাল দিয়ে উঁচু করে ঘেরা। মন্দিরের সামনে পাহারায় বনদপ্তরের কর্মীরা। বিপদ উপেক্ষা করে কাতারে কাতারে মানুষ আসেন পুজো দিতে। নবজাগরণ বনবিবি সঙ্ঘ পুজোর দায়িত্বে। কমিটির কর্মকর্তা অখিল দাস ও স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘আমরা মানুষকে জঙ্গলে আসার জন্য নৌকার ব্যবস্থা করি। বহু মানুষ মানত করেন। দণ্ডি কাটেন।’ চলতি বছর সুন্দরবনের মৈপীঠে বারবার লোকালয়ে হানা দিয়েছিল বাঘ। আতঙ্কে ঘুম উড়েছিল বাসিন্দাদের। নগেনাবাদে কয়েক হাজার মৎস্যজীবীর বাস। মাছ-কাঁকড়া ধরে পেট চালান তাঁরা। মাছ ধরতে গিয়ে প্রায়শই বাঘের হামলার মুখে পড়তে হয়। অনেকের প্রাণ যায়। সেই মানুষগুলির কাছে বনবিবি বড় ভরসা। ফলে মন্দির এখন ভিড়ে ঠাসা। নিজস্ব চিত্র