Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ডিভিসির ছাড়ায় জলে পরপর ভাঙল বাঁশের সেতু, বিচ্ছিন্ন ভাটোরা দ্বীপাঞ্চল

সেটাই সত্যি হল! ডিভিসির ছাড়া জলে একের পর এক বাঁশের সেতু ভেঙে হাওড়া জেলার বাকি অংশের সঙ্গে আমতা বিধানসভার ভাটোরা দ্বীপাঞ্চলের সংযোগ বিচিছন্ন হয়ে গেল।

ডিভিসির ছাড়ায় জলে পরপর ভাঙল বাঁশের সেতু, বিচ্ছিন্ন ভাটোরা দ্বীপাঞ্চল
  • ২১ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: আশঙ্কা ছিলই। সেটাই সত্যি হল! ডিভিসির ছাড়া জলে একের পর এক বাঁশের সেতু ভেঙে হাওড়া জেলার বাকি অংশের সঙ্গে আমতা বিধানসভার ভাটোরা দ্বীপাঞ্চলের সংযোগ বিচিছন্ন হয়ে গেল। বিপাকে পড়েছেন এই অঞ্চলের কয়েক হাজার বাসিন্দা। তাঁদের সাহায্যার্থে ইতিমধ্যে নৌকার মাধ্যমে নদী পারাপারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। গত কয়েকদিন টানা বৃষ্টিতে ডিভিসির বিভিন্ন জলাধারে জলস্তর বাড়তে থাকায় জল ছাড়া শুরু হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ডিভিসির ছাড়া জলের তোড়ে প্রথমে হুগলির হায়াৎপুরে একটি বাঁশের সেতু ভেঙে যায়। সেই সেতুর ভাঙা অংশ দ্বীপাঞ্চলের উত্তর ভাটোরার গায়েনপাড়া এলাকার বাঁশের সেতুতে ধাক্কা মারে। হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে সেই সেতু। এরপর দু’টি বাঁশের সেতুর ভাঙা অংশ কুলিয়ার বাঁশের সেতুতে ধাক্কা মারলে সেটিও ভেঙে পড়ে। এদিকে, জলের তোড়ে আজানগাছি বাঁশের সেতু  ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় সেটি খুলে নেওয়া হয়। ভাটোরা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ প্রধান অশোক গায়েন বলেন, ‘বাঁশের সেতুগুলি ভেঙে যাওয়ায় দ্বীপাঞ্চল পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সমস্যায় পড়েছে এখানকার বাসিন্দারা।’ আমতার বিধায়ক সুকান্ত পাল জানান, ডিভিসি হঠাৎ করে জল ছাড়ায় এই সমস্যা হয়েছে। প্রশাসন সবদিকে নজর রাখছে। তাঁর আশ্বাস, কুলিয়ায় যে পাকা সেতু নির্মাণের কাজ চলছে, তা শেষ হয়ে গেলে এই সমস্যা মিটে যাবে। 

Advertisement

এদিকে, শুক্রবার উদয়নারায়ণপুরে বাঁধ মেরামতির কাজ পরিদর্শনে যান রাজ্যের সেচদপ্তরের প্রধান সচিব মণীশ জৈন। এদিন তিনি ডিহিভুরশুট জিরো পয়েন্ট ঘুরে দেখেন। গত বছর বন্যায় এই এলাকাতেই দামোদরের বাঁধ ভেঙে গিয়েছিল। মে মাস থেকে সেই বাঁধ মেরামতির কাজ শুরু করেছে সেচদপ্তর। এদিন পরিদর্শনের পর দপ্তরের তিনি বিডিও অফিসে বৈঠক করেন। সেখানে হাওড়ার জেলাশাসক পি দীপাপ প্রিয়া ছাড়াও ছিলেন সেচদপ্তর ও ব্লক প্রশাসনের একাধিক আধিকারিক। সূত্রের খবর, আগামী ৩০ জুনের মধ্যে বাঁধের কাজ শেষ করার ইঞ্জিনিয়ারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেসব জায়গায় এখন কাজ চলছে, সেখানে একজন করে ইঞ্জিনিয়ারকে তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতি দু’-তিন ঘণ্টা অন্তর কাজের রিপোর্ট পাঠাতে হবে। শ্রমিকের অভাব হলে স্থানীয় এলাকা থেকেই তা জোগাড় করতে হবে বলে ব্লক প্রশাসনকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। উদয়নারায়ণপুরের বিধায়ক সমীর পাঁজা বলেন, ‘দ্রুতগতিতে কাজ চলছে। আশা করা যায়, সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হবে।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ