Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

খড়গ্রামের এড়োয়ালি গ্রামে মঠবুড়ি কালীর পুজো করেছিলেন বামাক্ষ্যাপা

খড়গ্রাম ব্লকের এড়োয়ালি গ্রামে ১৩টি জমিদারবাড়ির কালীপুজো ঘিরে আনন্দে মেতে ওঠেন এলাকার বাসিন্দারা। পুজোর সময় পুরো গ্রাম আলোকসজ্জায় সেজে ওঠে।

খড়গ্রামের এড়োয়ালি গ্রামে মঠবুড়ি কালীর পুজো করেছিলেন বামাক্ষ্যাপা
  • ১৮ অক্টোবর, ২০২৫ ১৭:১০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কান্দি: খড়গ্রাম ব্লকের এড়োয়ালি গ্রামে ১৩টি জমিদারবাড়ির কালীপুজো ঘিরে আনন্দে মেতে ওঠেন এলাকার বাসিন্দারা। পুজোর সময় পুরো গ্রাম আলোকসজ্জায় সেজে ওঠে। আশপাশের গ্রাম থেকে হাজার হাজার দর্শনার্থী ভিড় জমান। কথিত আছে, এই গ্রামের মঠবুড়ি কালীর পুজো একবার করেছিলেন স্বয়ং সাধক বামাক্ষ্যাপা।

Advertisement

কয়েকশো বছর আগে গ্রামের জমিদারবাড়িতে কালীপুজোর প্রচলন হয়েছিল। পরে ওই পরিবার বড় হতে থাকলে বিভিন্ন শরিক আলাদা আলাদা পুজো শুরু করেন। ফলে এখন গ্রামে ১৩টি জমিদারি কালীপুজো হয়। জমিদারি পুজোর বাইরে গ্রামে একটিও ক্লাব বা অন্য পারিবারিক পুজো হয় না। এই ১৩টি পুজো নিয়েই গ্রামের মানুষ আনন্দে মেতে থাকেন।
বড়মা, মঠবুড়ি, নিমবুড়ি, চাতরকালী, ধর্মবুড়ি, বেলবুড়ি, কুলবু঩ড়ি, টুঙ্গিবুড়ি, মূলবুড়ি, শ্যামরূপী, ষষ্ঠীবুড়ি, আমরাবুড়ি ও চ্যাটার্জি বাড়ির কালী-এই ১৩টি জমিদারি কালীপুজো হয় গ্রামে। এর মধ্যে বেলবুড়ি কালীর পুজো তন্ত্রমতে হয়। এখানে মহিষবলিও দেওয়া হয়। চ্যাটার্জি বাড়িতে রক্ষাকালীর পুজো হয়।তবে কথিত আছে, মঠবুড়ির পুজোই গ্রামের প্রাচীনতম কালীপুজো। গ্রামের বাসিন্দা কালিদাস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, পঞ্চমুণ্ডের আসনের উপর সম্পূর্ণ তান্ত্রিকমতে মঠবুড়ির পুজো হয়। সেইসঙ্গে এখানে মহিষ বলি দেওয়া হয়। এটি গ্রামের সবচেয়ে পুরনো মন্দির। তাই এই পুজোকে আদিপুজোও বলা হয়। মঠবুড়ি কালীর মন্দিরের সঙ্গে আরও পাঁচটি শিবমন্দির রয়েছে।
জনশ্রুতি অনুযায়ী, সাধক বামাক্ষ্যাপা একবার নিজে মঠবুড়ি কালীর পুজো করে গিয়েছিলেন। তৎকালীন জমিদার নাকি পুজোর আগে বামাক্ষ্যাপাকে আনার জন্য তারাপীঠে বেয়ারা দিয়ে পালকি পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু সাধক পালকিতে আসেননি। বেয়ারারা জমিদারের কাছে ফিরে এসে সেকথা জানান। কিন্তু দেখা যায়, মঠবুড়ি কালীমন্দিরের সামনে পাতালসাগর পুকুরের জল থেকে সাধক উঠে আসছেন। এরপর তিনি পুজো করেন।
দীপান্বিতা কালীপুজোয় এড়োয়ালি গ্রামের অলিগলি থেকে প্রধান রাস্তা আলোকসজ্জায় সেজে উঠে। প্রতিটি মন্দিরে একাধিক বাজনার দল রাখা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা সুশীল রায়চৌধুরী বলেন, জমিদারবাড়ির পুজো হলেও সারা গ্রামের মানুষ এই পুজোয় অংশ নেন। অপর বাসিন্দা সঞ্জয় রায়চৌধুরী বলেন, পুজোর দিনে গ্রামে হাজার হাজার দর্শনার্থী আসেন। প্রতিটি বাড়িতে আত্মীয়স্বজনের সমাগম ঘটে। বিভিন্ন পুজো মণ্ডপে দর্শনার্থীদের খাওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়। কালীপুজো আমাদের এখানে বছরের সেরা উৎসব। 
• নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ