Bartaman Logo
৭ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘বড়লোকের বিটি লো’র বিকৃতি! সা‌ইবার থানার দ্বারস্থ পদ্মশ্রী রতন কাহার

বীরভূমের লালমাটি থেকে উঠে আসা কালজয়ী লোকগান ‘বড়লোকের বিটি লো’-কে কেন্দ্র করে ফের নয়া বিতর্ক মাথাচাড়া দিল

‘বড়লোকের বিটি লো’র বিকৃতি!  সা‌ইবার থানার দ্বারস্থ পদ্মশ্রী রতন কাহার
  • ৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: বীরভূমের লালমাটি থেকে উঠে আসা কালজয়ী লোকগান ‘বড়লোকের বিটি লো’-কে কেন্দ্র করে ফের নয়া বিতর্ক মাথাচাড়া দিল। এবার এই জনপ্রিয় গানের কথা ও সুর বিকৃত করার পাশাপাশি স্রষ্টার নাম উল্লেখ না করার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠল এক ইউটিউবার গায়িকার বিরুদ্ধে। নিজের অমর সৃষ্টির এমন অবমাননা মেনে নিতে না পেরে সোমবার সন্ধ্যায় সরাসরি সিউড়ি সাইবার থানার দ্বারস্থ হলেন পদ্মশ্রী রতন কাহার। এক গায়িকার বিরুদ্ধে ‘ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি’ বা মেধা স্বত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ জানিয়েছেন বর্ষীয়ান এই শিল্পী।

Advertisement

সিউড়ি শহরের ৪নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রতন কাহার ১৯৭২ সালে তাঁর অমর সৃষ্টি এই গানটি রচনা করেছিলেন। রতনবাবুর অভিযোগ, সম্প্রতি এক গায়িকা তাঁর কাছ থেকে কোনো অনুমতি না নিয়েই গানটি গেয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তা ছড়িয়েছেন। শুধু তাই নয়, গানের মূল অংশ সম্পূর্ণ বদলে দিয়ে তার বিকৃতি ঘটানো হয়েছে। পাশাপাশি, ভিডিওর কোথাও মূল স্রষ্টা হিসেবে রতনবাবুর প্রতি বিন্দুমাত্র কৃতজ্ঞতা স্বীকার করা হয়নি, যা মেধা স্বত্ব আইনের পরিপন্থী।
নিজের গানের এই হাল দেখে মর্মাহত প্রবীণ শিল্পী। আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, ‘আমি গানটা পুরোটা শুনতেই পারিনি। এত বাজেভাবে বিকৃত করেছে! জীবনে বহু শিল্পী আমাকে উপরে উঠতে দেয়নি, তবুও আমি কেবল গানকে ভালবেসে, গানকে আঁকড়েই বেঁচে থেকেছি। কিন্তু আজ যেভাবে আমার সৃষ্টিকে বিকৃত করে গাওয়া হল তাতে আমি ভীষণ কষ্ট পেয়েছি।’
এই গান নিয়ে বিতর্ক যোগ অবশ্য নতুন নয়। ২০২০ সালে বলিউড র‍্যাপার বাদশা তাঁর ‘গেন্দা ফুল’ গানে এই লোকগীতির লাইন ব্যবহার করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে দেশজুড়ে বিতর্কের ঝড় উঠলে বাদশা নিজের ভুল স্বীকার করে নেন। তিনি রতনবাবুকে পাঁচ লক্ষ টাকা সাম্মানিক তুলে দেওয়ার পাশাপাশি গানের মূল কৃতিত্বও প্রদান করেন। দীর্ঘ বঞ্চনার পর ২০২৪সালে শিল্পকলায় অসামান্য অবদানের জন্য রাষ্ট্রপতির হাত থেকে ‘পদ্মশ্রী’ সম্মানও পেয়েছেন এই লোকশিল্পী। কিন্তু তারপরও শিল্পীর প্রাপ্য সম্মানটুকু না মেলায় স্বভাবতই ক্ষুব্ধ তাঁর পরিবার।
রতনবাবুর ছেলে শিবনাথ কাহার ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ‘বাদশা অন্তত ভুল স্বীকার করে নিয়েছিলেন। কিন্তু বাবা একজন পদ্মশ্রী প্রাপক হওয়া সত্ত্বেও বর্তমানে যেভাবে তাঁকে না জানিয়ে গানের বিকৃতি ঘটানো হচ্ছে, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। গানটা শুনে খুব খারাপ লেগেছে। স্রষ্টার প্রতি ন্যূনতম কৃতজ্ঞতা স্বীকার পর্যন্ত করা হয়নি। এটা তো শিল্পীসমাজের অপমান। তাই বাধ্য হয়েই আমরা সাইবার ক্রাইমের দ্বারস্থ হয়েছি।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ